খারেজি,ওহাবি,তবলিগী ও মওদুদি মতালম্বি।

★আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ্।
★ প্রজেক্ট- ইসলামের মূলধারা ও বাতিল ফিরকা★
★ পোস্ট নং--১৪

★বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

♣খারেজি,ওহাবি তবলিগী ও মওদুদি মতালম্বি♣

কোন কোন বিষয়ে খারেজীদের সাথে ওহাবী মওদুদী মতাবলম্বীদের মিল রয়েছে হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তারা সত্য কথা বলবে যা তাদের গলদেশ অতিক্রম করবে না।" অন্যত্র ইরশাদ করেছেন,"এরা সুন্দর কথা বলবে এবং খারাপ কাজ করবে"

একথা প্রমাণিত সত্য যে, মিথ্যা,অপকর্ম ও খারাপ চরিত্রকে মাধ্যম করে কখনো কাউকে গোমরাহ করা যাবে না। কারণ, এদের বাহ্যিক চাল-চলন দেবেই মানুষ তাদেরকে চিনে নেয় এবং তাদের থেকে সর্তক হয়ে যায়। সুতরাং কোন মুসলমানকে পথভ্রষ্ট করতে হলে ইসলামকেই হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে দেখা যায়। নিজেদের ভ্রান্তিকে গোপন রেখে সরলপ্রাণ মুসলমানকে সুন্দর সুন্দর কথা বলে মোহিত করবে। অতঃপর তাদেরকে আপন করে নিয়ে নিজেদের ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণার মাধ্যমে ঈমান হার করবে।

আজকের ঐসব বাতিল ফিরকার কথাবাৰ্তা কতো সুন্দর । মানুষকে কোরআনের কথা বলছে! নামাযের আহ্বান জানাচ্ছে! সুন্নাতের প্রতি উৎসাহিত করছে। কিন্তু এদের কর্মের দিকে তাকালে এমন জঘন্যতম দিকটিও পাওয়া যায়, যা কোন কাফির কিংবা মুশরিকদের জন্য শোভা পায়না বরং এর চেয়েও জঘন্য। দলীয় স্বার্থের জন্য জামাত-শিবির চক্রের মুসলিম হত্যা নীতি। এদের কর্ম-কাণ্ড থেকে প্রমাণ হয়, তাদের তথাকথিত ইসলামী আন্দোলনে যারা বাধা সৃষ্টি করবে তাদেরকে যেন হত্যা করা বৈধ বরং সাওয়াবের কাজ। এ কারণেই তারা প্রতিপক্ষ মুসলমানকেও হত্যা করতে দ্বিধাবোধ করে না। মুহাম্মদ বিন আবদুল ওহাব নজদী অসংখ্য সুন্নী ওলামাকে হত্যা করিয়েছেন। কিন্তু সাধারণ মূসলমান এদের বাহ্যিক বেশ-ভূষা ও বক্তব্য শুনেই এদের পেছনে নাজাতের পথ খুঁজে।অপরদিকে সুন্নী ওলামা কেরাম এদের মৌলিক নীতিমালা ও ভ্রান্ত আক্বীদা সমূহ সাধারণ মুসলমানদের সামনে তুলে ধরে বক্তব্য রাখতে দেখলে এক শ্রেণীর মানুষ এ বলে মন্তব্য করে যে, দেখুন- "যারা কোরআনের কথা বলছে, নামাযের দিকে আহান করছে ও ভাল কথা বলছে তাদেরকে সুন্নী আলেমগণ ওহাবী, তাবলিগী, জামাত-শিবির বলে আখ্যায়িত করছেন।" এদের ভেবে দেখা উচিত, আলোচ্য খারেজী সম্প্রদায়ের ভাল কথা কোরআনের দিকে আহবান, নামায, রোযা ইত্যাদি
ইসলামী আচার-আচরণ সত্ত্বেও স্বয়ং রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহ তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন তাদের সম্পর্কে ঐ মন্তব্য করেছেন। এর একটি মাত্র কারণ ছিল,তারা ইসলামের মৌলিক আক্বীদা থেকে সরে পড়ে নিজেদের মনগড়া আক্বীদাকে ইসলামের নামে চালাতে চেয়েছিল। প্রথমে আক্বীদা দেখতে হবে, অতঃপর আমল। কিন্তু আজকের সাধারণ মুসলমান আমল দেখেই ভাল, মন্দ মন্তব্য করে চলছে। আক্বীদার কোন খোজই নিচ্ছে না। অন্যত্র হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম খারেজীদের সম্পর্কে বলেছেন, "ঈমান ও তাদের তেলাওয়াত কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না।" এর ব্যাখ্যায় মুহাদ্দেসীন কেরাম বলেছেন, এদের ঈমান ও কোরআন তেলাওয়াত শুধু মৌখিক এবং প্রতারণা স্বরূপ। এগুলো তাদের আন্তরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে নয়। কারণ, যারা আন্তরিকভাবে ঈমান গ্রহণ করবে এবং কোরআন তেলাওয়াত সহ অপরাপর পূণ্য কাজ করবে তাদের পক্ষে কোনদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবা কেরাম সম্পর্কে জঘন্য মন্তব্য করা অসম্ভব। তাদের ঈমানী চেতনা বাধা দেবে। কেননা, ঈমান, ইসলাম, কোরআন ইত্যাদি তো তাঁদের তাদের মাধ্যমেই এসেছে। দেখতে হবে এখানেও খারেজীদের সাথে কাদের মিল পাওয়া যায়। মওদুদী বলেছেন, “সাহাবা কেরাম সত্যের মা নয়" সুতরাং তারা সমালোচনার উর্ধেও নয়। তাই তিনি হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহ তা'আলা আনহুকে জালিম বলতেও দ্বিধাবোধ করেননি। (খেলাফত ও মুলুকিয়াত কৃতঃ মওদুদী)।

হযরত ওসমান গণি রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর মত খোলাফায়ে রাশেদীনের অন্যতম একজনকে “খেলাফতের নূ্ন্যতম যোগ্যতার অধিকারীও ছিলেন না" বলে মন্তব্য করেছেন। অনুরূপভাবে ওহাবীগণও সাহাবা কেরামের মহান শানকে খাট করার অপচেষ্টা চালিয়ে বলেছে, “এ উম্মতের কোন কোন বুযর্গ কোন কোন সাহাবা থেকে নিঃসন্দেহে শ্ৰেষ্ঠ ।”
(সিরাতে মুস্তাকিম, কৃত: মৌং ইসমাইল দেহলভী।)।

সাহাবা কেরাম যাঁদের উপর আল্লাহ তা'আলা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, যাদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে; সে ক্ষেত্রে কোন কোন বুযর্গকে সাহাবা কেরাম থেকে শ্ৰেষ্ঠ বলা তাঁদের প্রতি কতো বড় অবমাননা! কারো অবমাননা করা তার প্রতি হিংসারই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। সুতরাং,
এটা সাহাবা কেরামের প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ; আর এদের প্রতিহিংসা নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি হিংসারই নামান্তর। হযুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “যে তাঁদেরকে (সাহাবা কেরাম) হিংসা করবে, আমার প্রতি হিংসার কারণেই করবে"। (মিশকাত শরীফ)।

অতএব, সাহাবা কেরামের সমালোচনা ও তাদের প্রতি হিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো পরোক্ষভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমালোচনা ও হিংসারই অন্তর্ভুক্ত।সুতরাং যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমালোচক বা বিদ্বেষী সাব্যস্ত হবে তার পক্ষে ঈমানের কথা ও কোরআনের তেলাওয়াত, তাফসীর ইত্যাদি ধোকাবাজি ছাড়া আর কি-ই বা হবে। যেহেতু রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহ তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম খারেজীদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন, তাই তিনি এরশাদ করেছেন, ‘এদের ঈমান ও তেলাওয়াত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না’। আজকের ওহাবী-মওদুদীদের ঈমানী শ্লোগান ও কোরআনের আলোচনাকে সুন্নী ওলামা কেরাম তাদের ভ্রান্ত আক্বীদার কারণে ধোকাবাজী বা প্রতারণা বলে সরল প্ৰাণ মুসলমানদেরকে বুঝাতে চেষ্টা করলে এক শ্রেণীর মানুষ বলে, সুন্নী আলেমগণ কি এদের মনের খবর জানে।এটা তো গায়েবের বিষয়। এখানে জিজ্ঞাসা,আচ্ছা! হয়তো এটা সুন্নী আলেমদের বেলায় বলছে কিন্তু রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেলায় কি বলবে, যিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিলেন, “এদের ঈমান ও তেলাওয়াত কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না”? এখানে যদি রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণাকে অমূলক বলে তাহলে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের বর্ণিত হাদিসকে অস্বীকার করা হবে। অপরদিকে যদি উক্ত ঘোষণাকে যথার্থ এবং সত্য বলে স্বীকার করে তাহলে হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের "এলমে গায়েব" বা অদৃশ্য জ্ঞানকে স্বীকৃতি দেয়া হলো-যা ওহাবীদের মতে শিরক । (বারাহীনে কাতেয়া, কুতঃ মৌং খলীল আহমদ আম্বিটবী)

মওদুদীর মতেও "রাসুল অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী নন” ।(লণ্ডনের ভাষণ)।

উপরোক্ত হাদিসে খারেজীদের ঈমান এর আলোচনা ও কোরআন তেলাওয়াতকে তাদের ভ্রান্ত আক্বীদার কারণে হুযুর সাল্লাল্লাহ তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিতান্ত মৌখিক; আন্তরিক নয় বলে বর্ণনা দিয়েছেন। আর আজকাল একশ্রেণীর মানুষ ওহাবী-মওদুদী মতাবলম্বীদের ভ্রান্ত আক্বীদা সমূহের প্রতি চোখবন্ধ করে শুধু এদের ঈমানের শ্লোগান ও কোরআনের আলোচনাকে ইসলাম দরদী ও আসল
মুসলমান হবার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে। এখানে হক ও বাতিল নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নবী আর উম্মতের মধ্যে কতো ব্যবধান হয়ে গেল! এমতাবস্থায় সিরাতে মুস্তাকীম' খুঁজে পাওয়া বড় কষ্টসাধ্যই হবে। অন্যত্র হযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম খারেজীদের নিদর্শন বর্ণনা করে বলেছেন- ‘এরা সুন্দর কণ্ঠে কোরআন তেলাওয়াত করবে” । (ফতহুল বারী শরহে বোখারী, পঞ্চদশ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২২)।

আলোচ্য নিদর্শনটির ক্ষেত্রেও খারেজীদের সাথে আজকের ওহাবী-মওদুদী মতাবলম্বীদের বহুলাংশে সাদৃশ্য বিদ্যমান। এটিই আজকে সাধারণ মানুষকে পথ ভ্রষ্ট করার পেছনে মৌলিকভাবে কাজ করছে। কারণ, মানুষ মধুর কঠের প্রতি আকৃষ্ট । তাই আজকে তারা, নিজেদের জাতির বেড়াজালে সরলপ্রাণ মুসলমানদেরকে আটকানোর জন্য মধুর কণ্ঠকেই হাতিয়ার করেছে। তাফসীরুল কোরআন' নামে নিজেদের দলীয় ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে কোরআন হাদিসের মৌলিক জ্ঞানশূন্য এক কন্ঠ সর্বস্ব ব্যক্তিকে তথাকথিত আন্তর্জাতিক মুফাচ্ছেরে কোরআন উপাধিতে ভূষিত করেছে। যার কণ্ঠে কোরআনের আলোচনা শুনার জন্য মানুষের ভিড় জমে। এটাকেই অনেকে এদের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে। অথচ তাদের কি আদৌ জানা নেই, "সুমধুর কণ্ঠ কখনো সত্যতার প্রমাণ হতে পারে না। তারা কি জানেনা যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুমধুর কষ্ঠে কোরআন তেলাওয়াতকারী একটি দলকে বেদ্বীন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন?

সুতরাং শুধুমাত্র সুললিত কন্ঠের কারণে কাউকে বুযর্গ, ইসলামী চিন্তাবিদ, আল্লাহর প্রিয় ও আসল মুসলমান ইত্যাদি নির্ণয় করা মারাত্মক ভূল হবে। বরঞ্চ সর্বাগ্রে দেখতে হবে তার আক্বীদাকে।

(সংকলন- ইসলামের মূলধারা ও বাতিল ফিরকা।
লেখকঃ- মাওলানা কাযী মঈন উদ্দিন আশরাফী)।
★ পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদের জানার সুযোগ করার অনুরোধ রইল।
আমাদের সাথে থাকুন-
facebook.com/meitobimarenabiho

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।