পবিত্র হাদিসের আলোকে সুন্নি জামাআত
★আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ্★
★প্রজেক্ট- ইসলামের মূলধারা ও বাতিল ফিরকা★
★ পোস্ট নং--০৩।
★বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম★
একঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে হুবহু ঐ পরিস্থিতির আগমন ঘটবে যেভাবে বনী ইসরাঈলের উপর ঘটেছিল; দুই জুতোর সমতার মতোই। এমনকি যদি তাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে আপন মায়ের সাথে যিনা করে থাকে, তাহলে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন ব্যক্তির সৃষ্টি হবে, যে তা করবে। নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এর একটি দল ছাড়া অন্যান্য সবই জাহান্নামী। সাহাবা কেরাম আরয করলেন, ঐ একটি দল কারা? হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, যার উপর আমি এবং আমার সাহাবীগণ রয়েছে। (তিরমীযী শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
• দুইঃ হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা৷ আনহু হতে বর্ণিত, একদা নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম দণ্ডায়মান হয়ে বললেন, সাবধান হয়ে যাও! তোমাদের পূর্বে আহলে কিতাব (ইহুদী ও নাসারা) বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। আর এ উম্মত অবিলম্বে ভিয়াত্তর দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে।তন্মধ্যে বাহাত্তর দল জাহান্নামী আর এক দল জান্নাতী। এটা হলো আ'লা জামাআত। (আবুদাউদ শরীফ, মিশকাত শরীফ ও তালবস-এ- ইবলিস)
• তিনঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে রাদিয়াল্লাহু হতে মাসউদ তা'আলা আনহু বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা আলা আলাইহি ওয়াসালাম আমাদের সামনে একটি রেখা অংকন করলেন। অতঃপর বললেন এটা আল্লাহর রাস্তা। অতঃপর ঐ সরল রেখার ডানে-বামে আরো অনেক রেখা অংকন করলেন এবং বললেন, এ হলো কতগুলো রাস্তা এর প্রত্যেকটিতে একটি করে শয়তান রয়েছে, সে ঐ পথে আহবান করছে। অতঃপর হযুর পাক সাল্লাল্লাহ তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম করলেন-
ان هذا صراط مستقيما فاتبعوه
অর্থাৎ “এটা আমার সহজ-সরল পথ। তোমরা এ পথে চলো" (মুসনাদে ইমাম আহমদ, নাসায়ী শরীফ, দারমী শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
• চারঃ হযরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "আল্লাহ তা'আলা আমার উম্মতকে ভ্রষ্টতার উপর একমত হতে দেবেন না। আল্লাহর রহমতের হাত ‘জামা'আতের' উপর। যে ব্যক্তি জামাআত থেকে পৃথক হবে সে পৃথকভাবে জাহান্নামে যাবে। (তিরমিযী শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
• পাঁচঃ হযরত ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "বড় দলের অনুসরণ কর। কারণ, যে (বড়দল থেকে) পৃথক থাকবে, সে পৃথকভাবে জাহান্নামে যাবে।” (ইবনে মাজা শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
• ছয়ঃ হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “হে আমার প্রিয় বৎস! যদি তুমি এ অবস্থায় সকাল-সন্ধ্যা যাপন করতে পার যে, তোমার অন্তরে কারো প্রতি কোন বিদ্বেষ থাকবে না তবে তাই করো। অতঃপর বললেন,“হে প্রিয় সন্তান! এটা আমার তরীকা। আর যে আমার তরীকাকে ভালবাসে সে আমাকেই ভালবাসে। আর যে আমাকে ভালবাসবে সে জান্নাতে আমার সাথে থাকবে।" (তিরমীযী শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
• সাতঃ হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, হুযুর করিম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ফিতনা-ফাসাদের যুগে আমার তরীকাকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব রয়েছে। (মিশকাত শরীফ)
• আটঃ হযরত মু'আয ইবনে জবল রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, হযুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, নিশ্চয় শয়তান মানুষের জন্য বাঘ। সে অবস্থানকারী জন্য বাঘ। ছাগলের বেলায় বাঘের ন্যায়। সে পৃথক অবস্থানকারী দূরবর্তী ও পাশে অবস্থানকারী ছাগলকে ছিনিয়ে নেয়। তোমরা ঘাঁটিসমূহ থেকে দূরে থাকো এবং মুসলমানদের দল অবলম্বন করো।" (মুসনাদে ইমাম, মিশকাত শরীফ)
• নয়ঃ হযরত আবুযর গিফারী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি জামাআত’ থেকে এক বিঘাত পরিমাণ দূরে সরল, সে তার ঘাঢ় থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলল।" (মুসনাদে ইমাম আহমদ, আবু দাউদ শরীফ ও মিশকাত শরীফ)
• দশমঃ হযরত এরবায ইবনে সারীরা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহ হতে বর্ণিত,হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "যে আমার পরে জীবিত থাকবে, সে অনেক মতভেদ দেখবে। তখন তোমরা আমার এবং হেদায়াত প্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের তরীকাকে শক্তভাবে ধারণ করে। ওটাকে দাঁত দিয়ে মজবুতভাবে আকড়ে ধরো। (আবু দাউদ শরীফ, ইবনে মাজা শরীফ, তিরমীযি শরীফ, মুসনাদে ইমাম আহমদ ও মিশকাত শরীফ)
• এগারঃ হযরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু জাবিয়া নামক স্থানে মুসলমানদেরকে সম্বোধন করে বললেন, যেভাবে আমি তোমাদের মধ্যে দণ্ডায়মান, তেমনিভাবে রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মধ্যে দণ্ডায়মান অবস্থায় ভাষণ দিয়েছেন যে, "তোমাদের যে ব্যক্তি জান্নাতে মধ্যবর্তীস্থান পছন্দ সে যেন সুন্নাত ও জামা'আতকে অবলম্বন করে। কারণ, শয়তান একব্যক্তির সাথে। আর সে দু’জন থেকে অনেক দূরে ।"(তাহাবী শরীফ, তাবরানী ও তালবিসে ইবলিস)। আলোচ্য হাদিসটি ইমাম তিরমিযী আবদুল্লাহ ইবনে ওমরের সনদে বর্ণনা করেছেন, তাতে এ অংশটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত আছে, ‘হে উপস্থিত লোকজন জামা'আতের সাথে থাকা তোমাদের উপর ফরয হুশিয়ার! বিচ্ছিন্ন হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা কর। ইমাম তিরমীযী এ হাদিসটি "হাসান” বলে মন্তব্য করেছেন। (তালবিস-এ- ইবলিস)
• বারঃ হযরত আরফাজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, “জামা'আতের উপর আল্লাহর (রহমতের) হাত। যে জামা'আতের বিরোধী হবে, শয়তান তার সাথে থাকবে।” (তালবিস-এ-ইবলিস)
• তেরঃ হযরত মুগীরা ইবনে শোবা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হতে বর্ণিত হুযুর করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “সর্বদা আমার উম্মতের একটি দল বিজয়ী থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত।" (বোখারী শরীফ ২য় খন্ড)।
( সংকলন- ইসলামামের মূলধারা ও বাতিল ফিরকা,
লেখক:- মাওলানা কাযী মঈন উদ্দিন আশরাফী।)।
Comments
Post a Comment