সদকার ফযিলত
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
*সমস্ত ফজিলত আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি তাঁর রাস্তায় ব্যায় ও দান করার প্রতি আপন বান্দাদের উত্সাহিত করেছেন এবং অসংখ্য দরূদ সালাম তাঁর প্রিয় রাসূলের উপর যিনি আল্লাহর রাস্তায় ব্যাপকভাবে দান করে আপন উম্মতদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং হাবিবের পরিবার ও অসহায়ের উপর যারা রাসূলের শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন,
*আমরা এমন যুগে বসবাস করছি, যে যুগের মানুষ আল্লাহর রাস্তায় দান করাকে গুরুত্ব দেয় না অথচ রাব্বুল আলামীন কোরআনে পাকে , উনার হাবীব সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিসে পাকে দান করার গুরুত্ব বর্ণনা দিয়েছেন, মানুষ দুনিয়ার সম্পদকে স্হায়ী মনে করে, দিনের পর দিনে তার সম্পদ কিভাবে বৃদ্ধি হবে, তা নিয়ে জল্পনায় থাকে সব ছেড়ে কবরে চলে যেতে হবে, আল্লাহর রাস্তায় যা দান করা হবে, সত্যিকারভাবে সে গুলো জমা হয়, আসল সঞ্চয় হল আখিরাতের সঞ্চয় ,
যেমন
*যা তোমাদের কাছে আছে এগুলো ধ্বংশ হয়ে যাবে, আর যা আল্লাহর কাছে জমা আছে এগুলো স্হায়ী। বর্তমান পরিস্হিতিকে সামনে রেখে আধম কলম ধরেছি, আল্লাহর রাস্তায় দান করার কি ফজিলত কুরআন-হাদিসের আলোকে সংক্ষেপে বর্ণনা করব,
★কোরআনে পাকে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন,
*যারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে, তাদের উপমা একটি বীজের মত যা থেকে সাতটি শীষ বের হয়েছে আর প্রত্যেকটি শীষের মধ্যে একশতটি করে দানা, আল্লাহ তায়াল যাকে ইচ্ছা করে আরও বাড়ায়েদেন. আল্লাহ তায়ালা অধিক জ্ঞানী ও প্রসশ্তকারী। উপরোক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় আল্লাহর রাস্তায় এক টাকা দান করলে তা আল্লাহ তায়ালা সাতশত গুনের সাওয়াব দান করেন, তিনি চাইলে আরোও বাড়ায় দিতে পারেন। (বাকারা-১৬১)
*মিরাজের রাতে আমাদের নবি প্রথম আসমান থেকে দ্বিতীয় আসমানে যাওয়ার পথে আল্লাহ দেখিয়ে দিয়েছেন, উল্লেখিত আয়াতের বাস্তব নমূনা, রাসূল (দঃ) বলেন, আমার সাথে জিব্রাইল (আঃ) ছিলেন, আমি দেখলাম অনেক মানুষ চাষ করছে, বীজ রোপন করছে, সাথে সাথে একটা থেচে সাতটি শীষ বের হয়ে গেল, প্রতিটি শীষে একশত করে দানা এগুলো সাথে সাথে পেয়ে যাচ্ছে, আর তারা কাটতেছট, আমি বল্লাম হে জিব্রাঈল এরা কারা.? যারা চাষ করার সাথে সাথে এভাবে ফসল ভোগ করছে? জিব্রাঈল (আঃ) উত্তর দেন, রাসূল এগুলো আপনার ঐ সমস্ত উম্মতের উপমা, যারা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় বা দান করবে। (মাদারেজুন নবুয়ত)
*অন্য আয়াতে আছে-
*যারা আল্লাহর রাস্তায় দান করছে এবং ঐ দানকে কোঁটা দেওয়ার মাধ্যমে নষ্ট করে না । তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের কাছে ,তাদের কোন ভয় নাই আর কোন চিন্তা নাই। (বাকারা-১৬৩)
*অন্য আয়াতে আছে
*হে ঈমানদারগন তোমরা তোমাদের ছদকাকে কোঁটা ও কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে নষ্ট করোনা, ঐ ব্যক্তির মত যে খরচ করে মানুষকে দেখাবার জন্য। (বাকারা-১৬৩)
*এ আয়াত দ্বারা বুঝা যায় , কোঁটা দিলট বা মানুষকে দেখাবার জন্য দান করলে , কোন পূন্য বা প্রতিদান পাওয়া যাবে না। দানগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। আর যারা দান করে দানকে কোঁটা দেওয়া বা লোক দেখানোর মধ্যমে নষ্ট করে না, আল্লাহ তায়ালা বলেন তাঁর কোন ভয় ও চিন্তা নেই। আমি তাকে হেফাজত করব।
★রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন,
★নিশ্চয় ছদকা বা আল্লাহর রাস্তায় দান করা , দানকারীর কবরের গরম বা আগুনকে নিভিয়ে দিবে, এবং মুমিন কিয়ামতের ময়দানে তাঁর দানের ছায়ার নিচে আশ্রয় নেবে। (বায়হাকী/তাবরানী)
*রাসূল (দঃ) আরো বলেন, প্রত্যেক মানুষ কিয়ামতের ময়দানে তার দানের ছায়াতে থাকবে, যতক্ষন না মানুষের মধ্যে ফয়সালা হবে না । (নুযহাতুল মাজালিস)
# তিনি (দঃ) আরো এরশাদ করেন, নিশ্চয় মুমিন কিয়ামতের ময়দানে তার ছদকার ছায়ার নিচে থাকবে, উপরোক্ত হাদিস গুলোর মাধ্যমে বুঝা যায়, কিয়ামতের ময়দান ভয়াবহ ময়দান যে দিন বারটি সূর্যের তাপ একটি সূর্যে হবে এবং তামার ময়দান হবে, সবাই তাপ থেকে বাঁচার জন্য নফসি নফসি করবে। সেদিন ছদকার ব আল্লাহর রাস্তায় দানকারীরা ছায়াতে থাকবে, তাদের ভয় ও চিন্তা থাকবে না । (মিশকাত-১৭০)
★ছদকা দেয়া মানে আল্লাহ তায়ালাকে কর্জ দেয়া।
# একে অপরকে কর্জ দিলে যেমন আদায় করে দেয়, ঠিক আল্লাহর রাস্তায় দান করলে আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন এবং অনেক গুন বাড়িয়ে দিবেন, যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেন,
# নিশ্চয় আল্লাহর রাস্তায় দানকারী পুরুষ ও মহিলা আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম কর্জ দিয়ে থাকে, আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতিদান অনেক গুণে বাড়িয়ে দিবেন, এবং তাদের জন্য উত্তম বদলা রয়েছে। (বাকারা-১৭৬)
*অন্য আয়াতে আছে,
# আল্লাহ তায়ালা সুদকে ধ্বংশ করে দেন, এবং ছদকাকে বাড়িয়ে দেন।
# রাসূল (দঃ) বলেন,
*হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (দঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি একটি খেজুর ন্যয় সম্পদ তার হালাল উপার্জন থেকে দান কর, ঐ দান আল্লাহ উনার কুদরতি হাত দ্ধারা গ্রহন করে লালন পালন করেন। যেমনি ভাবে তোমাদের কেউ ঘোড়ার বাচ্চা লালন পালন করে, কিয়ামতের ময়দানে খেজুরের মত সম্পদ পাহাড়ের মত হয়ে যাবে এবং নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা পবিত্র তিনি পবিত্র সম্পদ ছাড়া কবুল করেন না । (বুখারী/মুসলিম)
..
*হালাল ছাড়া ছদকা কবুল নহেঃ
*আল্লাহর রাস্তায় দান করার জন্য উপার্জন হালাল হতে হবে, হারাম থেকে দান করলে আল্লাহ কবুল করবেন না, বরং ঈমান চলে যাবে যদি হারাম থেকে দান করাকে বৈধ মনে করে। কারণ- হারাম কে হালাল মনে করা কুফর!
*আল্লাহ পবিত্র, পবিত্র মাল সম্পদ ছাড়া তিনি দান কবুল করবেন না।
# হযরত সুফিয়ান সুরিস(রহঃ) বলেন,
* হারাম উপার্জন থেকে আল্লাহর রাস্তায় দান করা ঐ ব্যক্তির মত, যে কাপড়কে দৌত করে প্রস্রাবের পানি দ্ধারা।
★ছদকা মছিবতকে দূর করে দেয়ঃ
*ছদকা তার মালিককে বিভিন্ন মছিবত থেকে উদ্ধার করে, যেমন- রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন, ছদকা মছিবত দূর করে দেয়।
# অন্য হাদিসে আছে-
*রাসূল (দঃ) বলেন, তোমরা ছদকার মাধ্যমে মছিবত দূর করে দাও, তোমাদের সমস্যার সমাধানের জন্য ছদকার মাধ্যমে সাহায্য চাও। (শরহে বুখারী)
*রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন, নিশ্চয় ছদকা আল্লাহ তায়ালার গজবকে ঠান্ডা করে দেয় এবং খারাপ মৃত্যু থেকে হেফাজত করে। (তিরমিজি, মিশকাত-১৮৬)
*সে জন্য উলামায়ে কিরাম বলেন,কোন মছিবত আসার আশংকা থাকলে ছদকা করে দাও। তা দূর হয়ে যাবে।
★ছদকা জাহান্নামের আগুন থেকে বড় মাধ্যম।
*ছদকাকারীকে তার ছদকা জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে রাখবে- সে জন্য রাসূল (দঃ) বলেন,
খেজুরের টুকরা আদায়ের মাধ্যমে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বেচে থাক।
@অন্য হাদিযে রয়েছে@
*রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন, দানশীল ব্যাক্তি (যিনি ছদকা করেন) আল্লাহ তায়ালার কাছের হয়ে যায়, জান্নাতের কাছে হয়ে যায়। মানুষের কাছের হয়ে যায়, এবং জাহান্নাম থেকে দূরে হয়ে যায়। (তিরমিযী-মিশকা-১৬৪)
★অন্য হাদিসে রয়েছে,
#রাসূল (দঃ) জৈনিক সাহাবি কে বলেন, তোমার উচিত্ আল্লাহর রাস্তায় দান করা। কারণ ছদকার মধ্যে ছয়টি ফায়দা রয়েছে। তিনটি দুনিয়াতে, তিনটি আখিরাতে।
#দুনিয়ার_ফায়দা'
১/ রিযিক বেড়ে যাবে।
২/সম্পদ বেড়ে যাবে।
৩/ ঘরবাড়ী আবাদ থাকবে।
#আখিরাতের_ফায়দাঃ
১/ উলঙ্গ থাকবে না বা সতর ঢাকা থাকবে।
২/ মাথার উপর ছায়া হয়ে যাবে।
৩/ জাহান্নামের মধ্যখানে পর্দা হয়ে যাবে। (নুযহাতুল মাজালিস-১৩৮)
#বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত মকহুল (রঃ) বলেন-
*মুমিন যখন ছদকা করে জাহান্নাম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে অনুমতি চায়, কারণ ছদকার মাধ্যমে তার থেকে একজন উম্মতে মুহাম্মদী (দঃ) মুক্তি পেয়ে গেল। (নুযহাতুল মাজালিস-১৩৮/মিশকাত)
(তথ্যসূত্র- রোযা, যাকাত ও শবে বরাতের গুরুত্ব- মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী।
Like us- facebook.com/meitobimarenabiho
Comments
Post a Comment