যাকাতের আলোচনা।

#মাহে_রমজানের_ডাক_পর্ব_নয়_যাকাতের_আলোচনা_১ম_পর্ব_

*সমস্ত প্রসংশা আল্লাহ তায়ালার জন্য যিনি যাকাতকে ফরজ করেছেন, এবং কোটি কোটি দরূদ সালাম হাবীবে খোদা (দঃ)এর উপর , যিনি যাকাত আদায় করার  ব্যপারে জোর তাগিদ দিয়েছেন, এবং হাবীবে খোদা (দঃ) এর পরিবার আসহাব  ও সকল মুমিনের উপর যারা রাসূলের হুকুম কে শ্রদ্ধার সাথে পালন করে যেতেন।

*আল্লাহ তায়ালা আপন বান্দার সম্পদকে পবিত্র করার লক্ষে  যাদের কাছে নিসাব পরিমান তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা চাদি রৌপ্য আছে এবং ঐ সম্পদের উপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে যায়, তখন তাদের উপর একশত টাকায় আড়াই টাকা গরীব,মিসকিন বা ইয়াতিমকে দান করা ফরজ করে দিয়েছেন। তাকে ইসলামী শরীয়তে যাকাত বলা হয়।

*বর্তমানে অনেক সম্পদশালী মুসলমান এই যাকাতের ব্যেপারে উদাসিন। অথচ রাব্বুল আলামিন যাকাত ফরজ করেছেন, পৃথিবীর জমিন থেকে দরিদ্রতাকে মুছে দেওয়ার জন্য এবং তাঁর বন্দাদের  তাঁর নৈকট্য  হাসিল করার জন্য । কিন্তু দুঃখের বিষয় কিছু কিছু বুদ্ধিজীবিরা ধারনা করেছে যে, যাকাতের মাধ্যমে দরিদ্রতা মুচন করা সম্ভব নয় বরং সুদের ক্ষেত্র বাড়ায় দিলে মুচন সম্ভব হবে। নাউযু বিল্লাহ! সুদ হল হারাম। যেমন-

*আল্লাহ তায়ালা ব্যাবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন'(বাকারা২৭৫) আর যে শরীরটা হারামে গঠিত  ঐ শরীর জাহান্নামেয় হকদার হয়ে যায়,

হাদিসের ভাষায়-

* ঐ বুদ্ধিজীবিরা আসলে ইহুদী নাসরাদের পালিত কুকুর, তারা সরল মুসলমানকে সহজে জাহান্নামের পথকে দেখিয়ে দিচ্ছে, তাই অধমের স্বল্প জ্ঞান হওয়া সত্বেও কলম ধরেছি, যাতে মুসলিম সমাজের সামনে কুরআন হাদিসের যাকাত আদায় না করলে কবর ও আখিরাতে কিরূপ শাস্তি রয়েছে আদায় করার ফজিলত বর্ণনা করার প্রয়াস পাচ্ছি।

#যাকাত_আদায়ের_ফজিলত

*তোমরা নামাজ কায়েম কর,যাকাত আদায় কর, আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম ঋন দাও,তোমাদের কল্যাণের জন্য যা কিছু আল্লাহর কাছে দিবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। এটাই উত্তম এবং বড় প্রতিদান, তোমরা আল্লাহর  কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা দয়ালু ও ক্ষমাশীল। (মুজ্জামিল-২০)

*উপরোক্ত আয়াত দ্ধারা বুঝা য়ায় যাকাত এটা এক ধরনের ঋন যা আল্লাহর কাছে দেওয়া হয়, কেউ কাউকে ঋণ দিলে সেটা আবার পায় ঠিক তদরূপ কোন বান্দা যাকাত আদায় করলে তার প্রতিদান অবশ্যই আল্লাহ থেকে পাবে।

#যাকাত_সম্পদকে_পবিত্র_করে_

*আল্লাহ তায়ালা  ইরশাদ মোবারক করেন,

* হে রাসূল (দঃ) আপনি মুসলমানদের থেকে যাকাত আদায় করার মাধ্যমে তাদেরকে এবং তাদের সম্পদকে পবিত্র করুন।

*উপরোক্ত আয়াত দ্ধারা বুঝা যায় নিশ্চয় যাকাত তার প্রদানকারী ও প্রদানকৃত সম্পদকে পবিত্র করে । আর যদি সম্পদের যাকাত আদায় না করা হয়, সমস্ত সম্পদ নাপাক বা  অপবিত্র হয়ে যায়।

(সুত্র- রোজা, যাকাত ও শবে বরাতের গুরুত্ব/১৪-১৫/ মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী)।

#মাহে_রমজানের_ডাক_পর্ব_দশ_যাকাতের_আলোচনা_পর্ব_দুই_

*যাকাত গরিবের হক*

*যাকাতের সম্পদ যদিও ব সম্পদশীলদের কাছে থাকে, তাদের মালের সাথে মিশিয়ে থাকে আল্লাহ বলেন এগুলো গরিবের হক।
যেমন কোরআনে পাকে বলেন,
*ধনীদের সম্পদে ভিক্ষুক ও বঞ্চিত ব্যক্তির নির্দিষ্ট হক রয়েছে (মায়ারেজ-২৫)

*ধনীরা গরীবদের হক আদায় না করলে কিয়ামতের ময়দানে গরীবদের অভিশাপ পাবে-
যেমন হাদিসের বাণী-

*হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, কিয়ামতের ময়দানে গরীবদের থেকে ধনীরা অভিশাপ পাবে এবং গরীবরা আল্লাহ তায়ালাকে বলবে, হে আমাদের প্রভু তারা (ধনীরা) আমাদের উপর জুলম করেছে, আমাদের হক যা তাদের উপর ফরজ ছিল আমাদের দেয়নি। আল্লাহ তায়ালা বলবেন আমার ইজ্জত ও জালালের শফত করে বলছি, আমি আমার রহমত থেকে আছ তাদেরকে অনেক দূরে নিক্ষেপ করব এবং তোমাদেরকে আমার রহমতে ভরপুর করে দেব। তাছাড়া  হযরত মায়জ ইবনে জাবালকে ইয়ামনের গভর্নর হিসাবে পাঠাবার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নছিহত করেছিলেন তা থেকে বুঝা যায় যে যাকাত গরিবের হক- যেমন-

*হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হযরত মায়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামনে পাঠাচ্ছিলেন, তখন তাকে বলেন, হে মায়াজ তুমি আহলেকিতাবদের কাছে যাবে, প্রথমে তাদের এক আল্লাহর সাক্ষ্য ও আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাক্ষ্য দেওয়ার প্রতি আহবান করবে, তারা যদি মানে তখন তাদেরকে বলবে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন, তারা যদি সেটাও মানে , তখন তাদেরকে যাকাতের প্রতি আহবান করবে, যা তাদের ধনী থেকে নিয়ে গরীবদের বন্টন করা হবে।(বুখারী ও মুসলিম)

*যাকাত অনাদায়ে শাস্তি*

*যাকাত ফরজ হওয়ার পর যারা আদায় করে না তাদের শাস্তি কি হবে কোরআনে
আল্লাহ তায়ালা এবং হাদিসে তার রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন,

*যারা স্বর্ণ রৌপ্য জমা করে এবং আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে না হে রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাহি ওয়াসাল্লাম আপনি তাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তির খবর  শুনায়ে দিন, কিয়ামতেল দিন ঐ(স্বর্ণ ও রৌপ্য) গুলোকে জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতপর তাদের কপালে , পার্শ্বে এবং পিঠে দাগ দেয়া হবে, আর বলা হবে যা তুমি দুনিয়াতে জমা করে যাকাত আদায় কর নাই তার মজা বুঝ।

*হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন স্বর্ণ বা রৌপ্যের মালিক তার যাকাত আদায় করে নাই, কিয়ামতেয় ময়দানে তার জন্য ঐ স্বর্ণ বা রৌপ্যের প্লেটকে আগুনে গরম করে তার পার্শ্ব, কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। আর যখনি শরীরের চামডা উঠে যাবে আরেকটা চামডা সৃষ্টি হয়ে যাবে, আজাব ভোগ করার জন্য, ঐ কিয়ামতের এক দিন দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান, যতক্ষন না বান্দাদের ফয়সালা হবে না যাকাত অনাদায় কারীদের শাস্তি হতে থাকবে। জান্নাতিরা জান্নাতে ,জাহান্নামিরা জাহান্নামে যাওয়া পর্যন্ত । (মুসলিম)

*কুরআনে পাকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন*

*যারা কৃপন তারা যেন ধারণা না করে আল্লাহ তায়ালা যা তাদেরকে সম্পদ
দান করেছেন এগুলো যাকাত না দিয়ে জমা করে রাখাটা ভাল হবে, বরং এটা তাদের জন্য খারাপ হবে, কিয়ামতের ময়দানে কৃপনতা করে যাকাত আদায় না করার কারণে ঐ সম্পদগুলোকে সর্প বানিয়ে তাদের গলায় মালা পরিধান করানো হবে। আর সর্পগুলো তাদেরকে আক্রমন করবে।

*হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত" তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা যাকে সম্পদ দিয়েছেন আর সম্পদের যাকাত আদায় করে নাই , কিয়ামতের ময়দানে তায় সম্পদগুলোকে বিষাক্ত সর্পের রূপ ধারন করবে যার সাদা দাগ থাকবে এবং দুটি বিষক্ত শিং এর মত থাকবে।  তার মালিককে  "আমি তোমার সম্পদ তোমার ভান্ডার" বলে আক্রমন করবে । (বূখারী)

*হযরত ইবনে মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্পদকে বিষাক্ত সর্প বানিয়ে তাকে আক্রমন করার জন্য গলায় পেছিয়ে দিবেন।(তিরমিযি)....#চলবে

(তথ্যসূত্র- রোযা , যাকাত ও শবে বরাতের গুরুত্ব/১৫-১৭/মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ রজভী)।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

#মাহে_রমজানের_ডাক_পর্ব_১১_যাকাতের_আলোচনা_পর্ব_৩

*শুধু কিয়ামতের ময়দানে নয় অনেকের কবরে সম্পদগুলো সর্প হয়ে যাবে।যেমন হযরত ইবনে আব্বাসের (রাঃ) আমলের ঘটনাঃ

*একজন সম্পদশালী ছিল যে যখন মারা যায় তার জন্য কবর খনন করা হল,সেখানে তারা অজগর সর্প পেল,এ খবর হযরত ইবনে আব্বাসকে জানান, তিনি তাদেরকে অন্য আরেকটা খনন করতে আদেশ দেন, সেখানেও ঐ সর্প পেল, এভাবে সাতটি কবর খনন করা হল, প্রত্যেকটি  কবরে সর্প পাওয়া যাচ্ছে, তখন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) তার পরিবার থেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তারা বললেন, সে সম্পদের যাকাত আদায় করত না, ইবনে আব্বাস (রাঃ) ফয়সালা দেন তাকে ঐ সর্পসহ দাপন করা হোক। (নুযহাতুল মাজালিস-১ম খন্ড-১৩৭)

*হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি, তিনি বলেন, যে সমস্ত সম্পদের সাথে যাকাত মিশ্রিত থাকে মানে যদি যাকাত আদায় করা না হয় তাহলে ঐ সম্পদ ধ্বংশ হয়ে যায়।

*রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যাক্তি নিজেকে পাঁচটি কাজ থেকে বারণ করে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য পাঁচটি বিষয়কে বারণ করেন।

১)যে ব্যাক্তি নিজেকে যাকাত আদায় করা থেকে বিরত করে, আল্লাহ তায়ালা তার সম্পদ হেফাজত করা থেকে বারণ করেন,

২)যে ব্যক্তি জমিনে উত্‍পাদিত ফসল থেকে উশর বা দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে নিজেকে বারেণ করে, আল্লাহ তায়ালাও তার দিকে বরকত নাজিল করা থেকে বারণ করেন।

৩)যে ব্যাক্তি নিজেকে ছদকা বা আল্লাহর রাস্তায় দান করা থেকে বারণ করে, আল্লাহ তায়ালাও তাকে সুস্হ থাকা থেকে বারণ করেন।

৪)যে ব্যক্তি ইবাদত বন্দেগী করার পর দোয়া থেকে নিজেকে বারণ করে,আল্লাহ তায়ালাও তার ইবাদত কবুল করাকে বারণ করেন।

৫)যে ব্যাক্তি নিজেকে জামাতে শরীক হওয়া থেকে বারণ করে, আল্লাহ তায়ালাও তার ঈমান পরিপূর্ণ হওয়া থেকে বারণ করেন' (জুবদাতুল ওয়ায়েজিন)

*স'লাবা বিন হাতিবের ঘটনা*

*যাকাত আদায় না করেপ কৃপনতা করলে আল্লাহ
ও তাঁর
রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারাজ হয়ে যান, এবং দুনিয়া আখিরাত বরবাদ হয়ে যায়, যেমন প্রসিদ্ধ ও নেককার সাহাবি ছিল সা'লাবা,পরবর্তীতে কৃপনতা করে ধ্বংশ হয়ে যায়। তার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কুরআনের আয়াত ও নাজিল করে দেন,

*মুনাফিকদের মধ্যে এমনও ছিশ, যারা আল্লাহর সাথে মজবুত ওয়াদা করেছিল,যদি আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ করে সম্পদ দেন, তাহলে আমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করব এবং নেক বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাব।আর যখন আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করে সম্পদ দান করেন,কৃপন হয়ে যায় এবং যাকাত আদায় করা থেকে মুখ ফেরায় নেয়, তারা এমন জাতি যাদের স্বভাব হচ্ছে মুখ ফেরায় নেয়া।

#আয়াতের_শানে_নুযুলঃ

*হযরত আবু বাহিলী (রাঃ)নকল করেছেন উপরোক্ত আয়তটি নাযিল হয়েছিল সা'লাবা বিন হাতিব আনসারির ব্যাপারে, যে অনেক আবেদ তথা ইবাদতকারী ছিল, রাত দিন মসজিদে কাটিয়ে দিত, যার কারণে তাকে মসজিদের কবুতর নামও রাখা হয়েছিল  একদিন নামাজের শেষে দোয়া করার আগেই মসজিদ থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল, রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, হে সা'লাবা তোমার কি হল? মুনাফিকদের মত দোয়া না করে চলে যাচ্ছ কেন?  সে উত্তর দিল, হুজুর মসজিদ থেকে তাডাতাড়ি বের হওয়া নেফাকতের কারণে নয়,বরং আমার একটি মাত্র চাদর আছে, আমার স্ত্রী নামাজের চাঁদর নেয়,সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে,আমি গেলে সে এই চাদরটা পড়েপসে নামাজ পড়বে,আমার ভয় হচ্ছিল তার নামাজ কোন কাযা হয়ে যাবে কিন? তাই তাড়াতাড়ি বের হচ্ছিলাম,সে দরবারে রেসালতে আরজ করল ইয়া রাসূলাল্লাহ আপনি দোয়া করেন যাতে আমাদের রিযিক প্রসস্ত হয়ে যায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন হে সালাবা তোমার কি পছন্দ সচ্ছে না' আমার মত জিবন যাপন করতে? আমি চাইলে এই মদিনার চার পার্শ্বের পাহাড়গুলো স্বর্ণ হয়ে যাক, তাহলে আল্লাহ তায়ালা স্বর্ণ করে দিবেন।আমার মত থাক সম্পদ হওয়ার হওয়ার কামনা কর না। কিন্তু সে ধর্য্য ধারন করল না। বারবার  বলতে লাগল হুজুর আমার রিযিক প্রসস্তের জন্য দোয়া করুন। আমি সম্পদশালী হলে প্রত্যেকের হক আদায় করে দেব।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন-অল্প সম্পদ যেটার শোকরিয়া আদায় করা হয় সেটা উত্তম অধিক সম্পদ থেকে,যেট শোকরিয়া আদায় করা হয় না,কিন্তু সে আবার বল্ল সম্পদ হওয়ার জন্য দোয়া করুন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করলেন, হে আল্লাহ তাকে সম্পদ দান করুন

*রাসূলের দোয়াতো অবশ্যই কবুল, কিছুদিন যেতে না যেতেই সে অনেক ছাগলের মালিক হয়ে যায়।সে ছাগল নিয়ে এমন পাগল হয়ে গেল, আস্তে আস্তে মসজিদে আসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে,যে মানুষ রাত দিন মসজিদে পড়ে থাকত এখন মাঝে মাঝে আসে,এক পর্যায়ে তার ছাগল এমন বেড়ে গেল,ঘরের আশে পাশে রাখা অসম্ভব হয়ে যায়,পরিশেষে ছাগলগুলো নিয়ে পাহাড়ের চুড়াই উঠে যায়,যেখান থেকে শুধু জুমার দিন আসে,আরো কিছুদিন যাওয়ার পর জুমার নামাজও তরক করে দেয়, শুধু ঈদেরদিন নামাজে আসে, পরবর্তীতে ঈদের নামাজে আসাও নসিব হল না-একদিন যাকাত উসুলকারীদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে পাঠালেন,তাঁরা যখন তার কাছে গেলেন সে বলল অন্যদের থেকে নিয়ে আস, আমি আমার যাকাতের ব্যপারে চিন্তা করব। উসুলকারীরা ফিরে যখন তার কাছে আসে তখন সে বল্ল রাসূলের কোন চিঠি তোমাদের কাছে আছে? উনারা যখন পড়িয়ে শুনালেন এগুলোতো টেকস।উসুলকারিরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি বলে উঠলেন,
সালাবা ধ্বংস হয়ে গেল,এবং যারা যাকাত আদায় করেছেন রাসূল তাদের জন্য দোয়া করলেন। ইতিমধ্যেই উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হল।আয়াতটি শুনে সে দৌড়ে দৌড়ে যাকাত নিয়ে আসলে তার যাকাত কবুল করতে রাসূল নিষেধ করলেন,রাসূলের ইন্তেকালের পর আবু বকর (রাঃ) দরবারে যাকাত নিয়ে আসে উনিও কবুল করেননি,ঠিক তদরূপ ফারুকে আজম রাঃ হযয়তে উসমান রাঃ আমলে সে দুনিয়া থেকে চলে যায় এবং সম্পদকে সর্প ও আগুনের জলন্ত কয়লা বানিয়ে দেয়....চলবে।
(ঐ-১৯-২১)।

#মাহে_রমজানের_ডাক_১২তম_পর্ব_যাকাতের_আলোচনা_৪র্থ_ও_শেষ_পর্ব

*কাদেরকে যাকাতের সম্পদ দেয়া যাবে......?

*বর্তমানে যাকাতের ক্ষেত্র সাতটি।
১)ফকির
২)মিসকিন
৩)যাকাত উসূলকারী
৪)গোলামে মুকাতিব
৫)কর্জদার
৬)আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে
৭)মোসাফির

#ফকিরঃ
ফকির বলা হয়, যার কাছে নিসাফ তথা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা চাঁদির পরিমান সম্পদ না থাকে, ঘর, বাড়ী,কাপড় চোপড়ও আছে কিন্তু খাওয়া দাওয়া , সন্তানদের লেখা-পড়া  মোট কথা যা প্রয়োজন তা নিয়ে কষ্ঠে আছে, তাকে যাকাত দেয়া যাবে। কিন্তু তার ভিক্ষা করা জায়েয নাই। (শামী)

#মিসকিনঃ
যার কাছে কিছু নেই, এমনকি পোষাকাদিও নেই, মানুষের কাছে হাত পাতে, তার জন্য ভিক্ষা জায়েয এবং তাকে  যাকাত দেয়া যাবে। (আলমগীরী)

#যাকাত_উসুলকারীঃ

*যাকে বাদশা যাকাত উসূল করার জন্য পাঠিয়েছেন, তাকে যাকাতের মাল দেয়া যাবে, হ্যা যত উসূল করে এনেছে তার অর্ধেকের বেশি দেয়া যাবে না। (শামী)

#গোলামে মোকাতিবঃ

*এমন গোলাম যার সাথে তার মালিকের সাথে চুক্তি হয়েছে অত টাকা দিতে পারলে তুমি আজাদ। তাহলে ঐ গোলামকে তার গোলামিয়ত থেকে রক্ষা দেয়ার জন্য যাকাত দেয়া যাবে।(প্রায় কিতাবে)

#কর্জদারঃ

*এমন কর্জদার যার কর্জের টাকা পরিশোধ করলে নেসাব পরিমান সম্পদ বাকী থাকে না । (শামী) তাকে যাকাত দেয়া যাবে, উল্লেখ্য যে কর্জদার বলা হয়, যে হাজতে আসলিয়া বা যতটুকু প্রয়োজন  তা পূরণ করার জন্য ঋণ বা কর্জ নেয়। আমাদের দেশে অনেক কোটিপতি হাজার,লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নেয় এবং বলে আমি কর্জদার আমার উপর যাকাত ফরজ না।সে তো তার কর্জ মিটাবার জন্য কর্জ নেয়নি, বরং আরো পয়সা ওয়ালা হওয়ার জন্য নিয়েছে, সুতরাং তার সম্পত্তি থেকে অবশ্যই যাকাত দিতে হবে।

#আল্লাহর_রাস্তায়ঃ

*"মোজাহিদ" যে কাফের, মুশরিক, বে-দ্বীনদের বিরুদ্ধে জিহাদ করছে তার কাছে সম্পদ অর্জন করার ক্ষমতা থাকলেও  তাকে যাকাত দেয়া দেয়া যাবে।

*"তালিবে ইলম" যে  ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে লিপ্ত আছে, তাকে যাকাত দেয়া যাবে। এভাবে আল্লাহর রাস্তার যত দিক আছে, সেখানে যাকাত দেয়া যাবে। একবারে মালিক বানিয়ে দেয়ার শর্তে ।(শামী)

#মোসাফিরঃ

* যে ভ্রমণ করতে গিয়েছে এবং সম্পদ হারা হয়ে গেছে তাকে যাকাত দেয়া যাবে। যদিও বা সে তার এলাকায় ধনী লোক হয়। হ্যা যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু নিবে বেশি নেয়া যাবে না।

#আত্মীয়_স্বজনদের_মধ্যে_কাকে_যাকাত_দেয়া_যাবে?

* আসল বা মা, বাবা,দাদা,দাদী,নানা, নানী, এবং সন্তানাদি বা ছেলে , মেয়ে, নাতি, পতিকে যাকাত দেয়া যাবে না। সাথে যাথে ছদকায়ে ফিতর, নজরেও কাফফারার টাকাও দেয়া যাবে না, হ্যাঁ নফল ছদকা দেয়া যাবে। (আলমগীরি,শামী)
*ছেলের স্ত্রী, মেয়ের স্বামী,নিজ স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তান, নিজ স্বামীর আগের ঘরের সন্তানকে যাকাত দেয়া যাবে। এবং নিকট আত্মীয় যাদের খরচ চালাত হয় তাদেরকে যাকাত দেয়া যাবে। (শামী)
*স্বামী স্ত্রী, স্ত্রী স্বামীকে যাকাত দেয়া যাবে না, হ্যা তালাক দেয়া ও ইদ্দত পালনের পর পারবে। (শামী)

#আত্মীয়দের_মধ্যে কাকে দেয়া উত্তম?

*যাকাত বা ছদকার টাকা পয়সা প্রথমে নিজ ভাই, বোন তাদের ছেলেদেরকে, অতপর চাচা" ফুফি, এবং তাদের সন্তানকে অতপর মামা, খালা এবং সন্তানকে তারপর এলাকার মানুষকে দেয়া উত্তম।(আলমগীরি,জাওহারা)

#ভাড়ায়_চালিত_গাড়ির_যাকাত_দিতে_হবে_কিন?

*আমরা জানি যাকাত দিতে হয় তিনটি বস্তুতে, স্বর্ণ রৌপ্য, ব্যাবসায় সম্পদ, পালিত পশু, ভাড়ায় চালিত গাড়ী উল্লেখিত একটিও নাই বিধায় গাড়ীর যত মূল্য তা থেকে যাকাত দিতে হবে না, হ্যাঁ যেগুলো বত্‍সরে
আয় করে তা থেকে ৪০ভাগের ১ভাগ যাকাত দিতে হবে। আর যদি গাড়ী কিনে বিক্রি করার জন্য তা হলে সম্পূর্ণ থেকে যাকাত দিতে হবে। (বাহারে শরীয়ত রেজভীয়া, ফতোয়ায়ে-ফকিহে মিল্লত)

#জমিন_কিনে_ঘর_তৈরী_করলে_যাকাত_কিরূপ_হবে?

*আমাদের  দেশে জমিদার অনেকে যারা ঘর ভাড়া দেয়, ঘরের যত মূল্য তা থেকে যাকাত দিতে হবে না, কিন্তু বত্‍সরে যা আয় তা থেকে ৪০ভাগের ১ভাগ যাকাত দিতে হবে।

#জমি_ব্যবসার_যাকাতঃ

*বর্তমানে জমির ব্যবসায় খুব জমেছে। আর তা হতে কোটি কোটি টাকা আয়ও করেছে, অনেকে যাকাত দেয়ার কোন হিসাব করে না,  অতচ  তার সম্পূর্ণ সম্পদ থেকে যাকাত দিতে হবে, কেননা সে ব্যবসায় নিয়তে  জমি কিনেছে। (বাহারে শরীয়ত)

#পশুর_যাকাত

*উট ৫টি, মহিষ ৩০টি, ছাগল ৪০টি হলে যাকাত দিতে হবে, কয়টি হলে কয়টি দিতে হবে তার বিস্তারিত বর্ণনা ফিকাহের কিতাবে রয়েছে,

#মসজিদ_রাস্তাঘাটের_কাজে_যাকাত_দেয়া_যাবে_কিনা?

*যাকাতের টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ, মৃত ব্যক্তির কাফনের খরচ দেয়া, মৃত ব্যাক্তির কর্জ আদায় করা, গোলম আজাদ করা, ব্রীজ সিড়িঘাট, কূপ খনন, কিতাব কিনে ওয়াকফ করে দেয়া জায়েজ নহে।

*পরিশেষে আল্লাহ তায়ালার দরবারে ফরিয়াদ জানাই,যাদের উপর যাকাত ফরজ হয়ছে, তারা যেন যথাযত হিসাব করে যাকাত আদায় করে কবর আখিরাতের ভয়াবহ আজাব থেকে মুক্তি পায়,
#আমিন।
(রোযা, যাকাত  ও শবে বরাতের গুরুত্ব/২৩-২৫/লিখক- মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী)

*আপনিতো জানলেন এবার শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে দিন।

*ইসলামী আদর্শ চর্চা করতে আমাদের পেইজে লাইক দিন।facebook.com/meitobimarenabiho

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।