পবিত্র মেহরাজ শরীফের আলোচনা- পর্ব- ৫

#পবিত্র মিরাজ শরীফের আলোচনা পর্ব(৫)।

#বিসমিল্লাহির_রাহমানির_রাহিম

#মিরাজের_তৃতীয়_পর্যায়ঃ সিদরা হতে আরশে আযীম পর্যন্ত

#সিদরাতুল মোন্তাহায় পৌছে জিব্রাইল (আঃ) নবী করিম  থেকে বিদায় নিলেন এবং বললেন-
"সিদরাতুল মোন্তাহা থেকে এক আঙ্গুল-অন্য রেওয়ায়তে চুল পরিমাণ অগ্রসর হলে আমার ছয়শত নূরের পাখা নূরের তাজাল্লীতে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে" সোবহানাল্লাহ!

যেখানে নূরের ফেরেস্তা জিব্রাইল (আঃ)জ্বলে যায়,সেখানে আমাদের প্রিয় নবীর (দঃ) সশরীরে স্বচ্ছন্দে সামনে অগ্রসরমান। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। "তিনি আল্লাহর যাতী নূরের জ্যোতি হতে পয়দা হয়েছেন"। বুঝা গেল-তিনি মাঠি নন। মাঠি হলে তথায় জ্বলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যেতেন। জিব্রাইল (আঃ) আমাদের নবীজির নূরের সামান্যতম অংশের তাজাল্লী দিয়ে সৃষ্টি। যেখানে জিব্রাইলের গতি শেষ ,সেখান থেকে আমাদের নবীজির (দঃ) যাত্রা শুরু। হাকিকতে মোহাম্মদী (দঃ) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে হলে হযরত জিব্রাইল (আঃ) কে জিজ্ঞাসা করতে হবে- সিদরাতুল মোন্তাহার পরে জিব্রাইল (আঃ) নবীজিকে কেমন দেখেছিলেন। জিব্রাইলও বলতে পারবেনা তার পরের ঘটনা কি ঘঠেছিল। ফিরতি পথে  হুজুর (দঃ)-এর স্বরূপ কেমন ছিল তা জানতে হবে মুছা (আঃ)-এর কাছে।সেদিন তিনি পকৃতপক্ষে কাকে দেখেছিলেন?
বিদায়ের সময় হযরত জিব্রাইল (আঃ) নবী করিম (দঃ)-এর কাছে একটি আরয পেশ করেছিলেন- আল্লাহ যেন হাশরের দিনে পুলসিরাতের উপর তাঁর ছয়শত নূরের পাখা বিছিয়ে দেয়ার অনুমতি দান করেন।  উম্মতে মুহাম্মদি যেন  উক্ত পাকার উপর দিয়ে পুলছিরাত পার হয়ে যেতে পারে। নবী কলিম (দঃ) আল্লাহর দরবারে জিব্রাইলের এই ফরিয়াদ পেশ করলে আল্লাহ তায়ালা ছাহাবায়ে কেরাম ও আহলে  মোহাব্বতের লোকদের জন্য তার পার্থনা মঞ্জুর করেন। আল্লাহ পাক বলেছিলেন- "জিব্রাইলের পাখার ওপর দিয়ে পুলছিরাত অতিক্রম করার আরজি মঞ্জুর করা হলো-আপনার সাহাবী এবং আশটকানদের জন্য"। এই দুই শ্রেণীর লোক জিব্রালের পাখার উপর দিয়ে পুলছিরাত পার হয়ে যাবে।
জিব্রাইল (আঃ)থেকে বিদায় হওয়ার পর রফরফ নামে এক বাহন এসে নবী করিম (দঃ) সত্তরটি নূরের পর্দা ভেদ করেনে। এক এক পর্দার ঘনত্ব ছিল পাঁচশত বত্‍সরের রাস্তা। এ হিসাবে ৩৬হাজার বত্‍সরের রাস্তা অতিক্রম করে নবী করিম (দঃ) আরশে মোয়াল্লায় পৌছলেন। এ পথে যখন তিনি একাকীত্ব অনুভব করেছিলেন, তখন হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ)-এর আওয়ায শুনতে পেয়ে শান্ত হয়েছিলেন। আর একটি আওয়াজও তিনি শুনতে পেয়েছিলেন,
"হে প্রিয় মোহাম্মদ (দঃ), আপনি একটু থামুন, আপনার রব সালাত পাঠ করছেন"। আল্লাহর সাথে দীদারের সময় নবী  করিম এ দুটি বিষয়ের রহস্য জানতে চাইলেন। আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমার সালাত অর্থ আপনার উপর দরূদ পাঠ করা। আর আবু বকরের সুরতে এক ফেরেস্তা সৃষ্টি করে আবু বকরের আওয়াজ নকল করা হয়েছিল-যেন আপনি শান্ত হন। মহিউদ্দিন ইবনে আরবী (রাঃ)-এর তাফসীরে বলা হয়েছে- হযরত আবু বকর সিদ্দিকই (রাঃ) রূহানীভাবে ফিরিস্তার সূরতে তথায় উপস্হিত ছিলেন। এটা ছিল তাঁর কারামত। কেননা,তিনি ছিলেন রাসূলে পাকের নিত্যসঙ্গী । তিনি দুনিয়াতে, মাযারে,হাশরের ময়দানে এবং জান্নাতেও নবী করিম (দঃ)-এর সঙ্গী থাকবেন। সুতরাং মি'রাজে রুহানীভাবে উপস্হিত থাকা খুবই স্বাভাবিক (দেখুন ইরফানে শরীয়ত)
আরশে পৌছার পর লাওহে মাহফুজ অবলোকনকালে নবী করিম (দঃ) দেখতে পেলেন, তথায় শেষ বাক্যটি লেখা ছিল এরূপঃ
"আমার গযবের উপর আমার রহমত প্রাধান্য বিস্তার কয়ে রয়েছে"
উক্ত হাদিসে কুদসীর মধ্যে উম্মতের জন্য একটি গোপন ইশারা নিহিত রয়েছে। তা হলো -কিছু শাস্তি ভোগ করার পর সমস্ত হকপন্হী উম্মতই আল্লাহর রহমতে নাজাত পাবে।
নবী করিম (দঃ) আরশকে জিজ্ঞেস করলেন- আমি সমগ্র জাহানের জন্য রহমত- তোমার জন্য কিরূপে রহমত? আরশ তখন আরয করলো- আল্লাহ তায়ালা যখন আমার মধ্যে কালেমার প্রথম অংশ 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' লিখলে, তখন আল্লাহর জালালী শানে আমার মধ্যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছিল। মনে  হয়েছিল -যেন আমি টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। তারপর যখন তার পার্শ্বে আপনার জামালী নামের অংশটুকু -মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ " লিখে দিলেন -তখন আমার কম্পন বন্ধ হয়ে গেল (শানে হাবীব)! সুতরাং আপনি আমার জন্য বিরাট রহমত।
(সুত্রঃ-নূর নবী-৯৯-১০১)
মাইতোঁ বিমারে নবীহোঁ।

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।