হাদিসের আলোকে শবে বরাতের ফযিলত।

শবে বরাত-
২য় পর্ব।

হাদিসের আলোকে শবে বরাতের ফজিলতঃ

*হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন,শাবান মাসের পনেল (১৫) তারিখ রাত তথা শবে বরাত আসলে তোমরা ঐ রাত্রে দাঁড়িয়ে যাও,
ইবাদত বন্দেগী কর এবং ঐ দিনে রোযা রাখ,
কারণ আল্লাহ তায়ালা ঐ রাত্রে সূর্যস্তের সাথে সাথে কুদরতে দৃষ্টি আপন বান্দাদের দিকে দেন এবং বলেন কেউ আছ কি ক্ষমা প্রার্থনাকারী?
আমি ক্ষমা করে দিব, কেউ কি আছ রিযিক তাশাশকারী? আমি রিযিক দান করব।
কেউ সমস্যা পড়েছ কি? আমি সমাধান করে দেব। এই ভাবে ফজর হওয়া পর্যন্ত আহবান করেন। (রুহুন মায়ীনী, ইবনে মাজা, মিশকাত)।

*হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি  রাসূল (দঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।
রাসূল (দঃ) এরশাদ করেছেন, আমার কাছে জিব্রাইল (আঃ) আসল, শাবানের পনের তারিখ আমাকে বল্ল , হে রাসূল (দঃ) আপনি আপনার মথাকে আসমানের দিকে উঠান।
আমি বললাম, আজ রাত্রে কি?
জিব্রাইল (আঃ) উত্তর দেয়, আজ এমন রাত, যে রাতে আল্লাহ তায়ালা আসমানে তিনশতটি রহমতের দরজা খুলে দেন এবং সবাইকে ক্ষমা করে দেন যারা ক্ষমা চায়, হ্যাঁ যারা শিরিক বা যাদু করে বা গননা করে তকদিরের ফয়সালা দিতে চায়,  ব্যাভিচার করে বা সব সময় মদ পান করে তাদের কে ক্ষমা করবেন না।
কিন্তু তাওবা করে যদি একে বারে ফিরে আসে, আর ঐ সমস্ত কাজে না যায়, তাদেরকে ক্ষমা করবেন (নুযহাতুল মাজালিস)।

*ইকনা নামক কিতাবে উল্লেখ আছে, শবে বরাতে জিব্রাইল (আঃ) রাসূল (দঃ) এর কাছে এসে বল্ল, হে রাসূল (দঃ) এই রাতে আপনি আপনার উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করানোর জন্য ইবাদতের মাধ্যমে চেষ্টা করুন, কেননা এই রাতে সকল সমস্যা সমাধান করা হয়।
অতঃপর রাসূল (দঃ) আপনার উম্মতকে শুভ সংবাদ দিন যে , আল্লাহ আপনার সকল উম্মত কে ক্ষমা করে দেবেন,
যদি শিরিক গুনাহ থেকে বিরত থাকে। অতপর বল্ল, হে রাসূল (দঃ) আপনার মাথা আসমানের দিকে উঠান।
রাসূল (দঃ) আসমানের দিকে তাকালেন, দেখতে পেলেন জান্নাতের সব দরজা, অন্য বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে , আসমানের সব দরজা  খোলা এবং প্রত্যেক দরজায় একজন করে ফেরেস্তা দন্ডয়মান প্রথম দরজার ফেরেস্তা  আহবান করে , যে এই রাতে রুকু করেন তাঁর জন্য শুভ সংবাদ দ্বিতীয় আসমানে দাড়িয়ে অন্য জন বলেন, যে এই রাতে সিজদা করবে ,তার জন্য শুভ সংবাদ, তৃতীয় আসমানের দরজায় ফেরেস্তা বলে, যে এই রাতে দোয়া করবে, তার জন্য শুভ সংবাদ,
চতুর্থ দরজায় আহবান করে যে এই রাতে আল্লাহর ভয়ে কাঁদবে তার জন্য শুভ সংবাদ।
পঞ্চম আসমানে আহবান করে, যে এই রাতে ভাল কাজ করবে তার জন্য শুভ সংবাদ।
৬ষ্ট আসমানে আহবান করে , যে এই রাতে যাহা চাইবে তাকে দেয়া হবে। ৭ম দরজায় আহবান করে ,যে ক্ষমা চাইবে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। এই ভাবে ফজর হওয়া পর্যন্ত আহবান করে যায়। (নুযহাতুল মাজালিস)

(তথ্যসুত্রঃ- "রোজা,যাকাত ও শবে বরাতের গুরুত্ব-৪৯-৫০পৃঃ- লিখক- আমার শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ- মাওলানা  আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজভী)
*নিজে জানলেন অপরকে জানানো আপনার দায়িত্ব- শেয়ার করুন।

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।