মিরাজের প্রথম পর্যায়- পর্ব-২

#বিসমিল্লাহির_রাহমানির_রাহিম
#পবিত্র মিরাজ শরীফের আলোচনা(পর্ব-২)।

আগের আলোচনার পর থেকে....
মি'রাজের প্রথম পর্যায়ঃ
রজব চাঁদের ২৭তারিখ সোমবার পূর্ব
রাত্রের শেশাংশে নবী করিম (দঃ) বায়তুল্লায়
অবস্হিত বিবি বিবি উম্মেহানী (রাঃ)-এর
ঘরে অবস্হান করছিলেন।
বিবি উম্মেহানী (রাঃ) ছিলেন আবু তালেবের
কন্যা এবং নবী করিম (দঃ) এর দুধবোন।
উক্ত গৃহটি ছিল বর্তমান হেরেম শরীফের
ভিতর পশ্চিম দিকে।
হযরত জিব্রাইল (আঃ) ঘরের ছাদ
দিয়ে প্রবেশ করে নূরের পাকা দিয়ে, অন্য
রেওয়ায়াত মোতাবেক-গন্ডদেশ
দিয়ে নবী করিম (দঃ)-এর কদম আল্লাহর
পক্ষ হতে দাওয়াত জানালেন
এবং নবীজিকে যমযমের কাছে নিয়ে গেলেন।
সিনা মোবারক বিদীর্ণ করে যমযমের
পানি দিয়ে ধৌত করে নূর এবং হেকমত
দিয়ে পরিপূর্ণ করলেন।
এভাবে মহাশূন্যে ভ্রমনের প্রস্তুতিপর্ব শেষ
করলেন।
নিকটেই বোরাক দন্ডয়মান ছিল। বোরার
আকৃতি ছিল অদ্ভুত ধরনের। গাধার
চেয়ে উঁচু,খচ্চরের চেয়ে নিচু,মুখমন্ডল
মানুষের চেহেরাসাদৃষ,পা উটের পায়ের মত
এবং পিঠের কেশর ঘোড়ার মত(রুহুল বয়ান-
সূরা ইসরা)।
মূলতঃ বোরাক ছিল বেহেস্তি বাহন-যার
গতি ছিল দৃষ্টি সীমান্তে মাত্র এক কদম।
নবী করিম (দঃ) বোরাকে সওয়ার হওয়ার
চেষ্টা করতেই বোরাক নাড়াচড়া শুরু
করলো। জিব্রাইল (আঃ) বললেন- "তোমার
পিঠে সৃষ্টির সেরা মহা মানব সওয়ার হচ্ছেন-
সুতরাং তুমি স্হির হয়ে যাও" । বোরাক
বল্লো, কাল হাশরের দিনে নবী করিম (দঃ)
আমার জন্য আল্লাহর দরবারে শাফাআত
করবেন বলে ওয়াদা করলে আমি স্হির হবো।
নবী করিম (দঃ) ওয়াদা করলেন। বোরাক
স্হির হলো। তিনি বোরাকে সওয়ার হলেন।
জিব্রাইল (আঃ) সামনে লাগাম ধরে মিকাইল
(আঃ) রিকাব ধরে এবং ইস্রাফিল (আঃ)
পিছনে পিছনে অগ্রসর হলেন। পিছনে সত্তর
হাজার ফেরেস্তার মিছিল। এ যেন দুলহার
সাথে বরযাত্রী। প্রকৃতপক্ষে নবী করিম
(দঃ) ছিলেন আরশের দুলহা (তাফসীরে রুহুর
বয়ান)
মক্কা শরীফ
থেকে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে মদিনার
রওযা মোবারকের স্হানে গিয়ে বোরাক
থামলো। জিব্রাইলের ইশারায় তথায়
তিনি দু'রাকাত নামাজ আদায় করলেন।
এভাবে ঈছা (আঃ)-এর জন্মস্হান বায়তুল
লাহাম এবং মাদ্ইয়ান নামক স্হানে হযরত
শুয়াইব (আঃ)-এর গৃহের কা বোরাক
থেকে নেমে নবী করিম (দঃ) দু'রাকাত
করে নামায আদায় করলেন। এজন্যই
বরকতময় স্হানে নামায আদায় করা সুন্নাত।
এই শিক্ষায় এখানে রয়েছে। নবী করিম (দঃ)
এরশাদ করেন, আমি বোরাক
থেকে দেখতে পেলাম-হযরত মুছা (আঃ) তাঁর
মাযারে (জর্দানে) দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন।
অতঃপর জিব্রাঈল (আঃ) বায়তুল
মোকাদ্দাছ মসজিদের সামনে বোরাক
থামলেন। সমস্ত নবীগন পূর্ব হতেই
সেখানে উপস্হিত ছিলেন। জিব্রাইল (আঃ)
বোরাককে বায়তুল মোকাদ্দাছের
ছোকরা নামক পাথরে বেঁধে আযান দিলেন।
সমস্ত নবীগন নামাযের জন্য দাঁড়ালেন।
জিব্রাঈল (আঃ) নবী করিম (দঃ)
কে মোসাল্লায় দাঁড় করিয়ে ইমামতির জন্য
অনুরোধ করলেন। হুজুর করিম (দঃ) সমস্ত
আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সত্তর হাজার
ফেরাস্তাকে নিয়ে দু'রাকাত নামায আদায়
করেন।
তখন ও কিন্তু নামায ফরজ হয়নি।প্রশ্ন
জাগে-নামাযের আদেশ নাযিল হওয়ার
পূর্বে হুযুর (দঃ) কিভাবে ইমামতি করলেন?
বুঝা গেল- তিনি নামাযের নিয়ম কানুন পূর্ব
থেকেই জানতেন। নামাযের তা'লীম
তিনি পূর্বেই পেয়েছিলেন-তানযীল বা নাযিল
হয়েছে পরে। আজকে প্রমাণিত হলো-
নবী করিম (দঃ) হলেন ইমামুল মোরছালীন ও
নবীউল আম্বিয়া (আঃ)। নামায
শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সভায় নবীগণ
নিজেদের পরিচয় দিয়ে বক্তব্য পেশ করলেন।
সর্বশেষ সভাপতি (মীর মজলিস)
হিসাবে ভাষণ রাখলেন নবী করিম (দঃ)। তাঁর
ভাষণে আল্লাহ তায়ালার
প্রশংসা করে তিনি বলেন- "আল্লাহ পাক
আমাকে আদম সন্তানগণের
মধ্যে সর্দার ,আখেরী নবী ও রাহমাতুল্লিল
আলামীন বানিয়ে প্রেরণ করেছেন"।
[এখানে একটি আক্বিদার প্রশ্ন জড়িত
আছে। তা হল-আম্বিয়ায়ে কেরামগণের
মধ্যে চারজন ব্যতিত আর সকলেই
ইতিপূর্বে ইনতিকাল করেছেন এবং তাঁদের
রওযা মোবারকও বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায়
অবস্হিত । যে চারজন
নবী জিবীত ,তাঁরা হচ্ছেন-হযরত ইদ্রিছ
(আঃ)বেহেস্তে, হযরত ইছা (আঃ) আকাশে,
হযরত খিজির (আঃ) জলভাগের
দায়িত্বে এবং হযরত ইলিয়াছ (আঃ)
স্হলভাগের দায়িত্বে । জীবিত ও
ইনতিকালপ্রাপ্ত সকল আম্বিয়ায়ে কেরাম
(আঃ) বিভিন্ন স্হান থেকে মূহুর্তের
মধ্যে কিভাবে সশরীরে বায়তুল
মোকাদ্দাছে উপস্হিত হলেন?
তাফসীরে রুহুল বয়ানে এ প্রশ্নের উত্তর
এভাবে দেয়া হয়েছে-" জিবীত চারজন
নবীকে আল্লাহ
তায়ালা স্বশরীরে এবং ইন্তিকাল প্রপ্ত
আম্বিযায়ে কেরামগণে মেছালী শরীরে বায়তুল
মোকাদ্দাছে উপস্হিত করেছিলেন।" কিন্তু
অন্যান্ন গ্রন্হে স্বশরীরে উপস্হিতির
কথা উল্লেখ আছে। কেননা, নবীগণ অষ্ট
অঙ্গ দ্বারা সিজদা করেছিলেন। নবীগণ ও
অলীগণ মেছালী শরীর ধারণ করে মূহূর্তের
মধ্যে আসমান জমিন ভ্রমণ করতে পারেন
এবং জীবিত লোকদের মতই সব কিছু
শুনতে ও দেখতে পারেন(মিরকাত ও তাইছির
গ্রন্হ)। আধুনিক থিউসোফীতেও
(আধ্যত্মবাদ) একথা স্বীকৃত। ফিজিক্যাল
বডি, ইথিক্যাল বডি,কস্যাল বডি,এসট্রাল
বডি- ইত্যাদি রূপ ধারণ করা একই দেহের
পক্ষে সম্ভব এবং বাস্তব বলেও আধুনিক
থিউসোফীর বিজ্ঞানীগণ স্বীকার করেছেন।
আমরা মুসলমান । আল্লাহর কুদরত ও
প্রদত্ত ক্ষমতার উপর আমাদের ঈমান
নির্ভরশীল। এ বিষয়ে কবি গোলাম
মোস্তাফার বিশ্বনবী বইখানায় বিস্তারিত
আলোচনা করা হয়েছে।
#মিরাজের দ্বিতীয় পর্যায়- এখান
থেকে ইনশাআল্লাহ এখান থেকে পরবর্তী পোষ্ঠে লিখব।
(তথ্যসুত্রঃ নূর নবী (দঃ)-হাফেজ মুহাম্মদ
আবদুল জলিল- ৯৪-৯৫পৃঃ)
এই পেইছে চোখ রাখুন।

মাইতোঁ বিমারে নবীহোঁ

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।