শবে বরাত, হযরত ইসা আঃ এর আখাঙ্খা।
পবিত্র শবে বরাতের আলোচনা পর্ব-৩-৪
*হযরত ঈসা (আঃ) এর আকাঙ্খা-
*একদা হযরত ঈসা (আঃ) এক পাহাড়ের উপর উঠলেন, দেখলেন সেখানে সাদা রং এর গুম্বুদ।
অতঃপর তিনি সেটার চর্তুপাশ্বে ঘুরলেন এবং অবাক হয়ে গেলেন।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাছে ওহী প্রেরণ করলেন।
হে ঈসা (আঃ) আপনি কি এর চেয়ে আশ্চ্যর্য দেখতে চান?
তিনি বলেন হ্যাঁ।
অতঃপর ঐ গম্বুদটা ফেটে যায়, আর তার মাঝে একজন মানুষ তাঁর হাতে একটি সবুজ রং এর লাঠি, পাশে আঙ্গুর গাছ।
ঐ মানুষ হযরত ঈসা (আঃ) কে বললেন, এটা প্রত্যেক দিনের রিযিক।
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন,
অতঃপর ঈসা (আঃ) আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন।
হে আল্লাহ এই মানুষের চেয়ে উত্তম মানুষ সৃষ্টি করেছেন কি?
আল্লাহ তায়ালা বলেন উম্মতে মুহাম্মদী (দঃ) শাবান মাসের পনের তারিখ বা শবে বরাতে দুই রাকায়াত নামায পড়লে এই ব্যাক্তির চারশত বছর ইবাদতের চেয়ে ও বেশি সাওয়াব পাবে।
হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, হে আল্লাহ আমি যদি উম্মতি মুহাম্মদী (দঃ) এর অর্ন্তভূক্ত হতে পারতাম।
(রওজুলুল ইফকার,নুযহাতুল)। উল্লেখ্য যে আল্লাহ তায়ালা হযরত ঈসা (আঃ) এর সেই আশা পূর্ণ করবেন।
কিয়ামতের পূর্বে উনাকে আবার জমিনে অবতরন করাবেন।
উনি আমাদের নবী (দঃ) এর কালিমা পড়ে উম্মতের অর্ন্তভুক্ত হবেন, চল্লিশ বছর রাজত্ব করবেন এবং নবীর (দঃ) রওজা শরীফের পাশেই কিয়ামত আসার পূর্বে পর্যন্ত আরাম করবেন।
*************************
#শবে_বরাতে_ইবাদত_ও_পরের_দিন_রোযা_রাখাতে_আজাবে_কবর_ক্ষমা_হয়ে_যায়
*মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমার এক বন্ধু ছিল তাঁর নাম আবু হাফস আল কবির।
সে যখন মারা যায় আমি তাঁর জানাজার নামাজ পড়ে এসে অনেক দিন পর্যন্ত জিয়ারত কবর আশা করট সুযোগ হয়নি।
একদিন মনস্হ করলাম আজকে যাবই।
কিন্তু সে দিনও যাওয়া হল না,
আর যখন রাতে ঘুমাতে যায়,
স্বপ্নে তাঁর সাক্ষাত পেলাম এবং দেখলাম তাঁর চেহেরাটা পরিবর্তন হয়ে গেছে।
আমি তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু সে উত্তর দিল না।
জিজ্ঞাসা করলাম উত্তর দিচ্ছনা কেন?
সে বল্ল উত্তর দেয়া ইবাদত, এটা কবরে আসার পূর্বে এখন শরীয়তের হুকুম আহকাম আমাদের উপর কর্তব্য নয়।
আবার জিজ্ঞেস করলাম তুমতো সুন্দর ছিলে, এখন পরিবর্তন হয়ে গেছ কেন?
সে উত্তরে দেয়,
তোমরা যখন আমাকে কবরে ঢুকায়ে দিয়ে ছিলে, মুনকার নাকির এসে চলে যাওয়ার পর, আরেকজন ফেরেস্তা আমার খারাপ আমল গুলো খুলে খুলে দেখাচ্ছিল এবং তার হাতে একটি লাঠি ছিল,
লাঠি দিয়ে আমাকে মারলে আমার শরীরে আগুন লেগে যেত এবং আমার কবর বলে উঠা তুমি আমার প্রভুর নাফরমানি করতে লজ্জা করনি,
আমি তোমাকে আজাব দিতে লজ্জা করবনা বলে এক পার্শ্ব অপর পাশ্বের সাথে যখন মিলে যায়, আমার শরীরের হাঁড় ও একটা আরেকটার সাতে মিলে যায়, শরীরের জোড়া গুলো খুলে যায়। এভাবে আজাবে থাকতে থাকতে আমায় চেহেরা পরিবর্তন হয়ে যায়।
আর যখন শাবান মাসের চাঁদ উদয় হয়, হঠাত্ উপর থেকে আওয়াজ আসে হে আজাবের ফেরেস্তা তাঁর আজাব উঠিয়ে নাও।
কেননা সে শাবান মাসের পনের তারিখ বা শবে বরাতে ইবাদত করট পরের দিন রোযা রেখেছিল, বিধায় তাঁকে মুক্তি দিয়ে দিলাম।
অতঃপর আমাকে জান্নাতের শুভ সংবাদ শুনাল।
সেই দিন থেকে আজাব বন্ধ হয়ে গেছে কিন্তু চেহেরাটা পরিবর্তন হল না (জহরাতুর রিয়াদ)
(তথ্যসুত্রঃ-রোজা,যাকাত ও শবে বরাতের গুরুত্ব-৫১-৫২পৃঃ-লিখক-আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজবী)
পবিত্র শবেবরাত এর আলোচনা পর্ব-৪
*শবে বরাতে নবী (দঃ) এর সকল উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার শুভসংবাদঃ
*হযরত আবু নছর ইবনে সাঈদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল (দঃ) এরশাদ করেন,
শাবানের তের তারিখ রাত্রে জিব্রাইল (আঃ) এসে আমাকে বলে, হে রাসূল (দঃ) উঠেন, উম্মতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, রাসূল (দঃ) ইবাদত বন্দেগী তাহাজ্জুদের নামাজের পর, উম্মতের জন্য ক্ষমা চাইলে জিব্রাইল (আঃ) এসে বলে , আপনার উম্মতের তিন ভাগের একভাগ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।
রাসূল (দঃ) পরের দিন তথা চৌদ্দ তারিখ এভাবে কেঁদে কেঁদে দোয়া করেলে জিব্রাইল (আঃ) এসে বলে তিন ভাগের দুভাগ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। রাসূল (দঃ) পরের দিন তথা পনের তারিখ বা শবে বরাতে এভাবে দোয়া করলে সকল উম্মতের গুনাহ ক্ষমা করা হবে, শুভ সংবাদ দেয়। যদি তারা শিরিক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে-(যুবদাতুল ওয়ায়েজিন)
(তথ্যসুত্রঃ- রোজা,যাকাত ও শবে বরাতের গুরুত্ব-৫২পূঃ- মাওলানা আবুল হাসান মুহাম্মদ ওমাইর রজবী)
-আরাফাত
Comments
Post a Comment