নবী গণের যুগে মিলাদুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম।
l*মিলাদ কিয়ামের বিধান*---(৩)
*নবীগনের যুগে মিলাদুন্নাবী*
১| আদম (আঃ)-এর যুগে মিলাদ
প্রত্যেক নবী নিজ নিজ যুগে আমাদের প্রিয়
নবী ও আল্লাহর প্রিয় হাবিবের আবির্ভাবের
সুসংবাদ দিয়ে গেছেন । হযরত আদম (আঃ) ও
তার প্রিয় পুত্র ও প্রতিনিধি হযরত শীস
(আঃ) কে নূরে মোহাম্মদীর তাজিম করার
জন্য নিন্মোক্ত অসিয়ত করেন :
আদম (আঃ) আপন পুত্র শিস (আঃ)
কে লক্ষ করে বলেন : হে প্রিয় বত্স ! আমার
পরে তুমি আমার খলিফা । সুতরাং এই
খিলাফত কে তাকওয়ার তাজ ও দূঢ় একিনের
দ্ধারা মজবুত করে ধরে রাখো । আয় যখনই
আল্লাহর নাম জিকির করবে . তার সাথেই
মোহাম্মদ (দঃ) এর নাম ও উল্লেখ করবে ।
তার কারণ এই : আমি রূহ ও মাঠির
মধ্যবর্তী থাকা অবস্হায় তার পবিত্র নাম
আরশের পায়ায় (আল্লাহর নামের সাথে)
লিখিত দেখছি । এরপর আমি সমস্ত আকাশ
ভ্রমন করেছি । আকাশে এমন কোন স্হান
ছিলনা যেখানে মোহাম্মদ (দঃ) এর নাম
অঙ্কিত পাইনি । আমার রব
আমাকে বেহেস্তে বসবাস করতে দিলেন ।
বেহেস্তে কোন প্রাসাদ ও
কামরা পাইনি যেখানে মোহাম্মাদ (দঃ) এর
নাম লিখা ছিলনা । আমি মোহাম্মদ (দঃ) নাম
আরো উল্লেখ দেখেছি সমস্ত হুরদের
স্কন্ধ দেশে . বেহেস্তের সমস্ত বৃক্ষের
পাতায় . বিশেষ করে তুবা বৃক্ষের পাতায়
পাতায় ও ছিদরাতুল মুনতাহা বৃক্ষের পাতায়
পাতায় . পর্দার কিনারায় এবং ফেরেস্তাখণের
চোখের মনিতে ঐ নাম অঙ্কিত দেখেছি ।
সুতরাং হে শীষ ! তুমি এই নাম
বেশি বেশি জপতে থাক । কেননা .
ফেরেস্তা গন পূর্ব হতেই এই নাম
জপতে মশগুল রয়েছেন । (জুরকানী শরীফ)
উল্লেখ্য যে . সর্বপ্রথম দুনিয়াতে ইহাই ছিল
জিকরে মিলাদুন্নাবী (দঃ) ।
২| হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর মিলাদ পাঠ ও
কেয়াম
হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এবং হযরত ইসমাইল
(আঃ) যখন আল্লাহর ঘর তৈরী করছিলেন .
তখন ইব্রাহিম (আঃ) উক্ত ঘরের নির্মাণ
কাজ কবুল করার জন্য এবং নিজের
ভবিষ্যত্ সন্তানাদিদের মুসলিম হয়ে থাকার
জন্য আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করার পর
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বা কেয়াম করে নবী করিম
(দঃ) এয় আবির্ভাব আরবে ও হযরত
ইসমাইলের বংশে হওয়ার জন্য
এভাবে দোয়া করেছিলেন : হে আমাদের রব !
তুমি এই আরব ভুমিতে আমার ইসমাইলের
বংশের মধ্যে তাদের মধ্য হতেই সেই মহান
রাসূলকে প্রেরণ করো - যিনি তোমার
আয়াত সমূহ তাদের কাছে পাঠ করে শুনাবেন .
তাদেরকে কুরআন সুন্নাহর বিশুদ্ধ জ্ঞান
শিক্ষা দেবেন এবং বাহ্যিক ও আত্মিক
অপবিত্রতা থেকে তাদেয়কে পবিত্র করবেন
। সুরা বাকারা ১২৯আয়াত ।
এখানেও দেখা যায়-হযরত ইব্রাহিম (আঃ)
রাসূলুল্লাহর আবির্ভাবের চার হাজার বত্সর
পূর্বেই মুনাজাত আকারে তাঁর
আবির্ভাব .তার সারা জিন্দেগির কর্ম
চাঞ্চল্য ও মানুষের আত্মার পরিশুদ্ধির
ক্ষমতা বর্ণনা করে হুজুর (দঃ)-এর মিলাদের
সারাংশ পাঠ করেছেন এবং এই মুনাজাত
বা মিলাদ দন্ডয়মান অবস্হায়ই করেছেন -
যা পূর্বেই দুটি আয়াতের মর্মে বুঝা যায় ।
ইবনে কাছির তাঁর বেদায়া ও নেহায়া গ্রন্হের
২য় খন্ড ২৬১পৃষ্ঠায় লিখেছেন . অর্থাত্
উক্ত দোয়া করার সময় ইব্রাহিম (আঃ)
দন্ডায়মান অবস্হায় ছিলেন ।নবী করিম (দঃ)
বলেন: আমি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর
দোয়ার ফসল । হযরত ইব্রাহিম (আঃ)
আল্লাহর নিকট থেকে চেয়ে আমাদের প্রিয়
নবী (দঃ) কে আরবে ইসমাইল (আঃ)-এর
বংশে নিয়ে এসেছেন । এটা উপলব্ধির বিষয় ।
আশেক ছাড়া এ মর্ম অন্য কেউ বুজবেনা ।
বর্তমান মিলাদ শরীফে রাসূলে পাকের
আবির্ভাবের যে বর্ণনা দেয়া হয়-তা হযরত
ইব্রাহীম (আঃ)-এর দোয়ার তুলনায়
সামান্যতম অংশ মাত্র । সুতরাং আমাদের
মিলাদ শরীফ পাঠ ও কেয়াম হযরত ইব্রাহিম
(আঃ) এরই সুন্নাত (দেখুন বেদায়া ও
নেহায়া ২য় খন্ড২৬১পৃষ্ঠা)
সূত্র:মিলাদ কেয়ামের বিধান:এম এ জলিল ।
বেদারা ও নেহায়া থেকে দলিল দেওয়ার কারন
হলো এটা ওহাবীদের কিতাব । তারা যেন
অশ্বিকার না করে ।
ধারাবাহিক ভাবে পোষ্ঠ চলবে ।
দয়া করে শেয়ার করন ।
সবাই জানা দরকার ।
*মাঁইতো বিমারে নবীহোঁ *।
Comments
Post a Comment