সালাফীদের কাফের ঘোষনা।

তোহফাতুল আবরার লিস সালাফিয়্যাতিল আশরার (পর্ব-৪)
(দুষ্ট সালাফীদের প্রতি পুণ্যবানদের উপঢৌকন)
- আবছার তৈয়বী
'এবার তবে লও ঠেলা...'
সম্প্রতি চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনী সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশের দুই শতাধিক পণ্ডিত আলেমদের সামনে আল আজহার প্রধান ও মিশরের গ্রান্ড মুফতি বলেছেন- 'ওহাবী ও সালাফীরা সুন্নী নয়'। আর এতেই ওহাবীদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। তারা নিজেদেরকে সুন্নী প্রমাণ করতে না পেরে এই সম্মেলনের বিরুদ্ধে বিষোদগার শুরু করেছে। ঠিক এই কথাটি আমি দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছিলাম। ওহাবীরা নিজেদেরকে কখনো 'ওহাবী' বলে পরিচয় দেয় না। বিশ্বব্যাপী ওরা নিজেদেরকে 'সুন্নী' বলে পরিচয় দেয়। আপনি নিজেই কোন ওহাবীকে জিজ্ঞেস করুন- সে বলবে যে, সে 'সুন্নী' আর আপনি 'বেদাতি'। আমার কথা বিশ্বাস না হলে আজ এবং এখনই অনলাইনে বা সামনা-সামনি কোন ওহাবীকে আপনি জিজ্ঞেস করে দেখুন। ওরা যদি 'ওহাবী' না-ই হয়, তাহলে 'ওহাবী' বললে ওরা তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে কেন- আমি অনেক ভেবেও বিষয়টির সমাধান পাইনি। আবার কিছু আঁতেল ওহাবী আছে, তারা বলে- আল্লাহর নাম 'ওহহাব' থেকে ওহাবী শব্দটি এসেছে। তাদের ভাষায় 'ওহাবী' মানে 'আল্লাহওয়ালা'। বেশ ভালো কথা! তো তোমাদেরকে 'ওহাবী' (আল্লাহওয়ালা) বললে তোমরা রাগ করো কেন? ওরা আর কথা কয় না। ফাবুহিতাল্লাযীনা কাফারূ...।

আমি নিজেই গত মে মাসে মদীনা শরীফে দরবারে রাসূলে (দরুদ) গেলে ওদের দালালের হাতে নিজ থেকেই ধরা দেই। আমি লেখালেখি করে জেনে ওরা খুশিতে 'বাকবাকুম' হয়ে আমাকে ওদের হেড কোয়াটার্সে নিয়ে যায়। সেটি মসজিদে নবূবী শরীফের ২য় তলায় অবস্থিত। সেখান থেকে বিভিন্ন ভাষায় বইগুলো বিতরণ করা হয়। মসজিদে নবীবুর (দরুদ) পাশে 'দাওয়াতুল ইরশাদ' নামে তাদের রয়েছে বিশাল এক ডিপার্টমেন্ট। আমাকে যে বইগুলো দেয়া হয়- সেখানে একটি বই ছিল 'আকীদাতু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত'। বই খুলে দেখলাম- ওখানে সব ওহাবী আকিদার কথা লেখা আছে। তারা আহলে সুন্নাতের নাম দিয়ে বিশ্ব মুসলিমকে ধোঁকা দিচ্ছে। আমাদের বিদায়ের দিন সকাল ১১ টায় মসজিদে নবুবী শরীফের বাবু আবু বকর আস সিদ্দিকের (রা.) বাইরে খোলা জায়গায় বসে আমি প্রিয় রাসূলের (দরুদ) রওজা মুবারকমুখী হয়ে মুনজাত করছিলাম। এমনি সময়ে মাথায় লাল রুমাল পরিহিত এক 'খবিস মুতাওয়া' আসলো। আমাকে বললো- তুমি করছোটা কী? আমি বললাম- কী করছি? সে বললো- 'তুমি কেবলামুখী না হয়ে রাসূলের কবরমুখী হয়ে কেন দোয়া করছো'? আমি জানি- দোয়ার কেবলা কা'বা নয়, বরং দোয়ার কেবলা হলো আসমান। কিন্তু এই খবিসকে দলিল দিলে সে মানবে না। তাই তাকে আটকাতে বললাম- 'তোমাদের বাদশাহকে তো দেখলাম- তিনি রওজা শরীফ সামনে নিয়ে মুনাজাত করছেন। তার কাছ থেকেই শিখেছি'। সে আমাকে পাম্প দিয়ে বললো- 'বাদশাহ তো বাদশাহ। তুমি তো আলেম। বাদশাহ না জেনে করেছে আর তুমি জেনে-শুনে করবে কেন'? বিদায়ের দিন মনটা এমনিতেই পেরেশান। ভজঘটে গেলাম না।

আমি মদীনা ইউনিভার্সিটিতে পড়ুয়া এক সুন্নী ভাইয়ের মাধ্যমে জেনেছি- ওরা এখন নিজেদের ঘরেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। সেই বিবাদটি হলো- 'মাযহাব মানা এবং না মানা' নিয়ে। আগে জানতাম- সৌদিরা 'ডাবল স্টান্ডার্ড' মেনটেইন করতো। এখন দেখি- তারা 'ত্রিপল স্টান্ডার্ড' মেনটেইন করে। তারা একদিকে আমাদের দেশের ওহাবী- যারা মাযহাব মানে, তাদের সাহায্য করে। আবার অন্যদিকে যারা মাযহাব মানে না- সেই সালাফী এবং আহলে হাদীসদেরকেও সহায়তা করে। সালাফীরা মাযহাবপন্থীদের সহী মুসলিম মনে করে না, আবার ওহাবীরাও সালাফীদেরকে দুই চোখে দেখতে পারে না। কিন্তু উভয়ের মদদদাতা ও আশ্রয়দাতা সৌদি সরকার। আমরা যখন বাসে করে বর্ডার ক্রস করি প্রায় আট ঘন্টা পর দেখি- সৌদি সেনাবাহিনী ট্যাঙ্কবহর ও ভারি যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে ইরাক ও ইয়েমেন সীমান্তের দিকে যাছে। আমি নিজেই তাদের ৯৩ টি ট্যাঙ্ক গুনতে পেরেছি চলন্ত অবস্থায়। ওরা সালাফি সন্ত্রাসীগোষ্ঠি আইএসআইএসের তারা যেটি 'দায়েশ' বলে- সেই দায়েশের ভয়ে ২৪ ঘন্টা তটস্থ থাকে, আবার দেখি- সেই দায়েশকে রসদ সরবরাহও করে। তার মানে তাদের কোন নীতিই নেই। কিরে নজদীর বাচ্চা! যা করার একটা কর! কিন্তু ওরা একটা ব্যাপারে একাট্টা- 'তারা ইহুদী বা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কখনো কিছু বলেনা'।

বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যখন সৌদি বাদশার সাথে সাক্ষাত করেন- তখন সৌদি বাদশাহ বঙ্গবন্ধুকে বলেন, আপনার দেশের নাম 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ' রাখুন। বঙ্গবন্ধু বললেন- বেশ ভালো কথা! আপনারা মুসলিম বিশ্বের দু'টি পবিত্র স্থানের রক্ষক। তো কাজটি আপনারাই শুরু করুন- সৌদি আরবের নাম পরিবর্তন করে 'ইসলামী প্রজাতন্ত্র আরব' রাখুন। তাহলে পৃথিবীর সব মুসলিম দেশ আপনাদের ফলো করবে। বঙ্গবন্ধুর উত্তরে সৌদি বাদশাহ চুপ হয়ে যান। তার মানে তারা সৌদি গোত্রবাদী নাম 'সৌদি আরব' পরিবর্তন করবেন না। আপনারা জানেন- বঙ্গবন্ধু যতোদিন জীবিত ছিলেন, সৌদি আরব ততোদিন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। আল্লাহ বলেন- 'লিমা তাকূলূনা মা লা তাফআলূন, কাবুরা মাক্বতান ইনদাল্লাহি আন তাকূলূ মা লা তাফআলূন' অর্থাৎ তোমরা যা করো না- তা বলো কেন? আল্লাহর কাছে এটা সবচেয়ে বেশি বড় অপরাধ হিসেবে ধর্তব্য যে, তোমরা যা করো না তা বলাটা)।

সম্প্রতি সৌদি কানা মুফতি ইরানীদের অমুসলিম ঘোষনা করেছে। কিছুদিন আগে সে দায়েশের বিরুদ্ধেও কথা বলেছে। কিন্তু দায়েশকে আবার সৌদি আরবই সাহায্য দিচ্ছে। ব্যাপারটি কি মুনাফেকি হয়ে গেলো না? নানা বিতর্কিত ও অশ্লীল ফতোয়া দেয়- সৌদি এই কানা মুফতি। সে 'ঈদে মিলাদুন্নবী (দরুদ' পালনকে 'হারাম' ঘোষণা দিয়েছে। আবার মৃত বউয়ের মাংস খাওয়াও বৈধ বলেছে। বউয়ের দুধ খাওয়াও জায়েয বলেছে। নারীদেরকে সে খেলনার বস্তু মনে করে। নানা অবৈধ ফতোয়া দিয়ে নারীদের সম্মানহানি করেছে। আপনারা দেখবেন- আগামীকাল বিশ্ব মুসলিম সম্মেলনে সেই 'কানা মুফতি'ই ভাষণ দেবেন। অথচ বিশ্বের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম, কা'বা শরীফের ইমাম ও খতিব ড. আবদুর রহমান আস সুদাইসীর মতো ব্যক্তিত্ব থাকার পরও এই বিতর্কিত নজদী কানা মুফতিকে আরাফাত সম্মেলনে ভাষণ দিতে দেওয়া মানে বিশ্ব মুসলিমের সাথে প্রতারণা করার শামিল। কিন্তু কুখ্যাত নজদী মতবাদে দীক্ষিত সৌদি সরকারকে সেই কথাটি বুঝাবে কে?

বি. দ্র.: লেখাটি ভালো লাগলে কপি করে অবিকৃতভাবে নিজ নিজ টাইমলাইন থেকে পোস্ট করুন। পরিচিত গ্রুপ ও পেইজে দিন।

তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ খৃ.
আবুধাবি, ইউ.এ.ই।

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।