নবী বংসের নামের পরে আঃ বলা।

[জানতে হলে পড়ুন, অপরকে জানাতে সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে Share/copy post করুন]

আলহামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামীন। ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসূলিহীল কারিম ওয়া আলা আ-লিহি ওয়া আসহাবিহী আজমাঈন

বাতিলের আগ্রাসন এখন সব জায়গায়। অতীতের রেশ ধরে কখনো শীয়া-রাফেজী নামে আবার কখনো খারেজী-নাসেবী-সালাফী নামে ও বৈশিষ্ট্যে। দ্বীনের মূলধারা রক্ষা করতে গিয়ে পৃথিবীর দিকে দিকে যুগে যুগে আ-লে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম তথা নবী পরিবারের সীমাহিন কোরবানী ইতিহাসের ধ্রুবসত্য বিষয়। ৬১ হিজরীর ১০ মহররম কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনার পর থেকে আহলে বাইত আলাইহিমুস সালামের রক্তাত্ব সংগ্রাম, আপোষহীন কোরবানী থেমে থেমে সদা প্রবহমান। পক্ষ নিতে গিয়ে কখনো পথভ্রষ্ট শীয়া-রাফেজীরা কূফা’র নিকৃষ্টতম নেফাকীর পরিচয় দিয়ে আহলে বাইতের উপর জুলুম করেছে, আবার বিপক্ষ নিতে গিয়ে খারেজী-নাসেবীরা মালাউন এজিদের নেতৃত্বে নবী পরিবারের নিষ্কলুষ রক্ত ঝরিয়েছে।
আল্লাহর রহমত যে ইফরাত-তাফরীত (বাড়াবাড়ি) পরিহার করে হক্বের ঝান্ডাবাহী ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের’ অস্তিত্ব কমবেশী প্রতি যুগেই বিদ্যমান। যাদের মৌল নীতি হল আল্লাহর তাওহীদে গভীর বিশ্বাস, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের প্রতি নির্ভেজাল ঈমান-মহব্বত ও ইত্তেবা, আহলে বাইতে রাসূলের প্রতি আন্তরিক মহব্বত ও শ্রদ্ধা, সকল সাহাবা তিনি যত আদনাই হোন না কেন তাকে সম্মান করা, সমালোচনার উর্দ্ধে রাখা এবং আউলিয়ায়ে কেরামের আদর্শে পথচলা।
পক্ষান্তরে ‘আহলে তাশাইয়ূ’ তথা শীয়া-রাফেজীরা আহলে বাইতে রাসূলকে অত্যধিক মহব্বত করার মেকী দাবি করে উম্মতের স্তম্ভ সম্মনিত সাহাবাদের (এদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবাও আছেন!) ত্রুটি তালাশ করে, আহলে বাইতকে তাদের মুখোমুখি দাঁড় করায়, তাদের সমালোচনা করে এবং নিকৃষ্টতার শেষ পর্যায়ে গিয়ে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের কলিজার টুকরা সাহাবাদের গালিগালাজ পর্যন্তও করে।
অন্যদিকে তাদের কাউন্টার দিতে গিয়ে খারেজী-নাসেবী-সালাফী-কথিত আহ্লে হাদিসরা আহলে বাইতে রাসূলের প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা দিতে চায় না। আহলে বাইতের আলোচনা করতে তাদের ঘোর আপত্তি! আহলে বাইতের শানে গোস্তাখী করা, তাদের সনে অমর্যাদাকর মন্তব্য করা তাদের খাছলত। এরা এতটাই জঘণ্য কারবালার ময়দানে ইমামুশ শোহাদা ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালামের নির্মম শাহাদাত ও নবী পরিবারের কোরবানীর জন্য তারা ইমামকেই দোষী সাব্যস্ত করে। মহররম মাস আসলে তাদের ‘ভাদ্র মাসের কুকুরের’ মত অবস্থা হয়। শানে আহলে বাইত আলোচনা না করে এরা এজিদের গুনকীর্তন শুরু করে। এজিদ পলিদকে নির্দোষ প্রমাণে এদের সব প্রচেষ্টা ব্যয় হয়। এজিদকে খলফাতুল মোসলেমীন, ইমাম হুসাইন বিদ্রোহী-রাষ্ট্রদ্রোহী ছিলেন এই হল তাদের বিশ্বাস! ইদানিং নরাধম এজিদের নামের শেষে এরা রহ. বলার ধৃষ্ঠতাও দেখিয়েছে। আহলে বাইতের ভক্ত-প্রেমিকরা যখন শানে আহলে বাইত আলোচনা করে তখন এজিদের প্রেতাত্মাদের শরীর জ্বালাতন শুরু হয়।

নবী পরিবার তথা আহলে বাইতে রাসূল এর নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ বলা একটি শরীয়তস্বীকৃত বিষয়। যাদের কুরআন-সুন্নাহ এবং এগুলোর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণমূলক মূল কিতাবের সাথে সম্পর্ক আছে তাদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট। কিন্তু না জানার কারনে কিংবা নাসেবী-খারেজীদের প্রভাবে আহলুস সুন্নাহপন্থী কিছু মানুষকে দেখা যায় এক্ষেত্রে তারা এজিদপন্থীদের সাথে সুর মিলান। ‘আলাইহিস সালাম’ শুধু নবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অন্য কারো জন্য নয় তাদের এই দাবির পক্ষে স্পষ্ট কোন দলিলও তারা দিতে পারেন না।
নিম্নে আহলে বাইতের নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ বলার বৈধতার ব্যাপারে কিছু দলিল উপস্থাপন করা হল।

# প্রথমে আসুন ‘আলাইহিস সালাম’ বাক্যের অর্থ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। আলাইহিস সালাম একটি দোয়া মাত্র। অর্থ তার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। উল্লেখ্য এক মুসলমান অপর মুসলমানের সাথে সাক্ষাতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ তথা আপনার/আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক মর্মে সালামের মাধ্যমে দোয়া করে। এই একই দোয়া যখন আহলে বাইতের জন্য শব্দ আগ পিছ করে ‘আলাইহিস সালাম’ বলে করা হয় তখন আপত্তি আসে কোন যুক্তিতে?
# কুরআনুল কারীমের কিছু আয়াত এবং নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে এগুলোর তাফসীর লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। যেমন :-
* সূরা নামল এর ৫৯ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
قل الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى -
র্অথ: হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, সমস্ত প্রশংসাই মহান আল্লাহ পাকরে জন্য এবং সালাম বা শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাগণরে প্রতি।”
এই পবিত্র আয়াতে কারীমার وسلام على عباده الذين اصطفى অর্থাৎ তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি সালাম অংশের তাফসীরে অধিকাংশ মুফাসসীরের মত হল এর দ্বারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এর সম্মানিত সাহাবাদের সম্বোধন করা হয়েছে। [তাফসীরে ইবনে কাছির, দুররুল মানছূর, তাবারী, মাজহারী, ইত্যাদি]
তাহলে এখানে স্পষ্ট হয়ে গেল নবী ভিন্ন অন্যদের জন্যও মহান আল্লাহ স্বয়ং সালাম জানিয়েছেন।
মুফাসসীর কালবী থেকে বর্ণিত- هم أمة محمد صلى الله عليه وسلم এখানে উম্মতে মোহাম্মদী উদ্দেশ্যে।
হযরত আত্বা ইবনে আব্বাস রাদি. থেকে বর্ননা করেন- أنهم الذين وحدوا الله وآمنوا به এরা হলেন তারা যারা আল্লাহকে এক বলে স্বীকার করেন এবং তাঁর উপর ঈমান আনেন। [তাফসীরে বাগাভী, যাদুল মাছীর]
এখানেও স্পষ্ট হল নবী ভিন্ন অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও সালাম ব্যবহার বৈধ। আহলে বাইতে রাসূলের জন্য বিনা দ্বিধায় প্রযোজ্য।
তাফসীরে রুহুল বায়ানে এসেছে-
والارجح فى مثل لقمان ومريم والـخضر والاسكندر الـمختلف فى نبوته ان يقال رضى الله عنه او عنها ولو قال عليه السلام او عليها السلام لا بأس به
র্অথ: অতএব প্রণধিানযোগ্য উদাহরণ হলো: হযরত লুক্বমান, হযরত মারইয়াম, হযরত খযিরি, হযরত সকেন্দোর যুল ক্বরনাইন। উনাদরে নবী হওয়ার ব্যাপারে ইখতলিাফ থাকার করণে উনাদরে শানে রদ্বয়িাল্লাহু তায়ালা আনহু অথবা আনহা বলা হয়। আর কউে যদি উনাদরে শানে আলাইহসি সালাম অথবা আলাইহাস সালাম বলে এতে কোনই অসুবধা নইে।” (তাফসীরে রূহুল বয়ান ৭ম খ- ২২৮ পৃষ্ঠা)

* সূরা সাফফাতের ১৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
سَلَامٌ عَلَى إِلْ يَاسِينَ [الصافات : ১৩০] অর্থাৎ সালাম ‘ইলইয়াসিন’দের প্রতি। এখানে ‘ইলইয়াসিন’ দ্বারা অনেক মুফাসসীর বলেছেন- يعني: آل محمد صلى الله عليه وسلم. অর্থাৎ সালাম আ-লে মোহাম্মদের উপর। [তাফসীরে ইবনে কাছির, দুররুল মানছূর]
এখানে আরো স্পষ্ট করে বিশেষত: আ-লে মোহাম্মদ তথা নবী পরিবার উল্লেখ করা হল।
* হাদিস শরীফে আমরা দেখতে পাই নবীয়ে দো’জাহাঁ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এক সাহাবার বাবাকে পুত্রের মাধ্যমে সালামের জবাব দিয়েছেন এইভাবে- عَلَيْكَ وَعَلَى أَبِيكَ السَّلاَمُ ‘তোমার উপর এবং তোমার বাবার উপর সালাম’। [সুনানে আবু দাউদ-হাদিস নং-৫২৩৩, হাদিসের মান- সহিহ]
তাহলে এখানে আরও প্রকাশ হলো স্বয়ং শরীয়তপ্রণেতা মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম অন্য মুসলমানের উপর তার উপর সালামসূচক বাক্য দ্বারা দোয়া করেছেন।
* প্রত্যেক নামাজের বৈঠকে আমরা দোয়া করি- السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين অর্থাৎ সালাম আমাদের উপর এবং আল্লাহর সালেহীন তথা নেক বান্দাদের উপর। এখানে অতীত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত যত নেকবান্দা ছিলেন ও আসবেন সকলেই শামিল হয়ে যান। তাহলে আহলে বাইতে রাসূলের উপর সালাম প্রেরণে গাত্রদাহ কেন?
# এছাড়াও আহলে বাইতের শানে ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার কি নতুন বিষয়? আমরা বিশেষ করে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনুসন্ধান করলে দেখতে পাই ইলমে হাদিসের অনেক ইমাম আ-লে রাসূলের নামের শেষে ‘আলাইহিস সালাম’ ব্যবহার করেছেন। যেমন-
* ইমাম বুখারী রহ. এর অবিস্মরনীয় কীর্তি ‘সহিহুল বুখারীর’ বেশ কিছু জায়গায় আমরা দেখতে পাই আহলে বাইতের নামের শেষে তিনি ‘আলাইহিস সালাম’ বলেছেন-
كتاب التهجد:
**** باب تحريض النبي صلى الله عليه وسلم على صلاة الليل والنوافل من غير إيجاب:
وطرق النبي صلى الله عليه وسلم فاطمة وعليا- عليهما السلام- ليلة للصلاة.
এখানে কিতাবুত তাহাজ্জুদ এ একটি বাব বা অধ্যায় নিয়ে এসেছেন যেখানে হযরত আলী ও ফাতেমা যাহরার নামের শেষে তিনি (আলাইহিমাস সালাম) বলেছেন।
كتاب الهبه:
باب إذا وهب دينا على رجل:
قال شعبة عن الحكم هو جائز. ووهب الحسن بن علي- عليهما السلام- لرجل دينه وقال النبي صلى الله عليه وسلم: ((من كان له عليه حق فليعطه، أو ليتحلله منه)). فقال جابر قتل أبي وعليه دين، فسأل النبي صلى الله عليه وسلم غرماءه أن يقبلوا ثمر حائطي، ويحللوا أبي.
এখানেও কিতাবুল হেবার অধীনে একটি বাবে তিনি এভাবে বর্ণনা করেন- হাসান ইবনে আলী আলাইহিমাস সালাম...
* সুনানে তিরমিজীতে ইমাম তিরমিজী রহ. স্বতন্ত্র বাবে এভাবে উল্লেখ করেন-
باب مناقب الحسن والحسين عليهما السلام
অর্থাৎ ‘হাসান এবং হুসাইন ‘আলাইহিমাস সালামের’ মানাক্বিব অধ্যায়
* সুনানে আবু দাউদ এ বর্ণিত একটি হাদিসে পাকে আমরা দেখি-
كتاب الصلاة:
» حدثنا الحسن بن أبي علي حدثنا عبد الرزاق عن ابن جريج حدثني عمران بن موسى عن سعيد بن أبي سعيد المقبري يحدث عن أبيه أنه رأى أبا رافع مولى النبي صلى الله عليه وسلم مر بحسن بن علي عليهما السلام وهو يصلي قائما وقد غرز ضفره في قفاه فحلها أبو رافع فالتفت حسن إليه مغضبا فقال أبو رافع أقبل على صلاتك ولا تغضب فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((ذلك كفل الشيطان)). يعني مقعد الشيطان يعني مغرز ضفره.
এখানেও কিতাবুস সালাতের অধীনে একটি হাদিসে বলা হয়েছে হাসান ইবনে আলী আলাইহিমাস সালাম
* হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ কিতাব মসনদে আহমদ বিন হাম্বলের ‘মসনদে আবু বকর সিদ্দীকের অধীনে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে-
أخبرني عقبة بن الحرث قال : خرجت مع أبي بكر الصديق رضي الله عنه من صلاة العصر بعد وفاة النبي صلى الله عليه و سلم بليال وعلي عليه السلام يمشي إلى جنبه فمر بحسن بن علي يلعب مع غلمان فاحتمله على رقبته وهو يقول
( وا بأبي شبه النبي ... ليس شبيها بعلي ) قال وعلي يضحك
এই হাদিসেও হযরত মাওলা আলী শেরে খোদার নামের পরে ‘আলাইহিস সালাম’ বলা হয়েছে।
মূলত: এভাবে দলিল বহু দেয়া যাবে। তবে বিশ্বাসী ও মহব্বতকারীর জন্য এত দলিল লাগে না। সুতরাং আসুন এই পবিত্র মাহে মহররমে বেশি বেশি আহলে বাইতকে নিয়ে গবেষণা করি, তাঁদের আদের্শে নিজেদের গড়ে তুলতে চেষ্টা করি।
✍️✍️✍️
নিবেদনে-
‘সগে দারে আ-লে রাসূল’ Muhammad Melad Shorif غفر الله له ولوالديه

Comments

Popular posts from this blog

ছবছে আওলা ও আ'লা হামারা নবী।

পিডিএফ বই ২৮ টি একত্রে।

মওদুদি মতবাদ।